slider

ফুলবাড়ীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা হালনাগাদে টাকা নেয়ার অভিযোগ

আশিকুর রহমান লিমন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ প্রতিপাদ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বল্প মূল্যে খাদ্য সহায়তায় চলমান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের অনলাইনে তালিকা হালনাগাদ কাজ চলছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। তালিকা হালনাগাদ কাজে সুবিধাভোগীদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করে প্রতি সুবিধাভোগীর কাছ থেকে পঞ্চাশ (৫০) টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা। আর এমন অভিযোগ ওঠেছে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের(ইউডিসি) উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
ইউনিয়নটির (ইউডিসি) উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে অনেক সুবিধাভোগী জানিয়েছেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীর তালিকা হালনাগাদ করার জন্য উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান প্রত্যেকের কাছ থেকে পঞ্চাশ টাকা করে নিচ্ছেন। টাকা না দিলে তিনি নানা ভাবে হয়রানি করেন। দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। এমনকি কার্ড আটকে রাখেন।
ইউনিয়টির পশ্চিম ধনিরাম গ্রামের সুবিধাভোগী সামছুল হক বলেন, আজকে আমি কার্ড নিয়ে এখানে এসেছি। পঞ্চাশ টাকা দিয়ে অনলাইন করে নিলাম। টাকা ছাড়া তো ওনি (উদ্যোক্তা) কাজ করে না। ঘোগার কুটি গ্রামের উকিল মিয়া, লালমিয়া, উত্তর বড়ভিটা গ্রামের নজরুল ইসলাম, বড়লই গ্রামের আজিজার রহমান, আমিন আলী বলেন, আমাদের কাছে অনলাইন করার খরচ বাবদ পঞ্চাশ টাকা করে নিয়েছে।
শনিবার ১৩ আগস্ট দুপুরে বড়ভিটা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে দেখা গেছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগী অনলাইনে তালিকায় নাম হালনাগাদ করার জন্য এসেছেন। তারা বলেন, তালিকা হালনাগাদ করার জন্য এখানে পঞ্চাশ টাকা করে দিতে হয়। আমরাও টাকা নিয়ে এসেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন বলেন, আমরা গরীব অসহায় মানুষ বলেই সরকার আমাদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাওয়ার সুবিধা করে দিয়েছে। তালিকা হালনাগাদ করতে যদি কোন খরচ দেয়া না লাগে তাহলে ইনি অবৈধভাবে আমাদের মত গরীব মানুষের কাছ থেকে কেন টাকা নিবে? আমরা এর বিচার চাই।
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান জানান, গত ১ আগস্ট হতে বড়ভিটা ইউনিয়নের ১ হাজার ৮৬৩ জন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীর অনলাইনে তালিকা হালনাগাদ কাজ শুরু করা হয়েছে। ১৩ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত ১ হাজার ১১ জনের হালনাগাদ কাজ শেষ হয়েছে। তালিকা হালনাগাদ করতে টাকা নেয়ার বিষয়ে সরকারি কোন নির্দেশনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুবিধাভোগীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার কোন সরকারি নির্দেশনা নাই। আমি নিজে প্রত্যেক সুবিধাভোগীর কাছ থেকে পঞ্চাশ টাকা করে নিয়েছি। সরকারি নির্দেশনা না থাকার পরেও কেন সুবিধাভোগীর কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আপনার কাছে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই!
এ ব্যাপারে বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু বলেন, আমরা ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার হতদরিদ্র পরিবারের মানুষ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সুবিধাভোগীর তালিকা হালনাগাদ করার জন্য টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নাই। গরীব অসহায় মানুষের সহায়তায় জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মহৎ উদ্যোগ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে খাটো করে সুবিধাভোগীদের কাজ থেকে টাকা নেয়া ঘটনা অমানবিক। আমি এমন গর্হিত কাজের নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি (ইউডিসি) উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিও জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button