ফুলবাড়ীতে একই স্থানে আটটি যানবাহন দুর্ঘটনায়

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই স্থানে পরপর আটটি যানবাহন দুর্ঘটানায় পড়েছে। এর মধ্যে দুটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে রহিমা বেগম (৩৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। একইসাথে ট্রাক-পিক-আপ খাদে পড়ে আটজন আহত হয়েছে। সিরিজ দুর্ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে সকাল ৬টা থেকে সড়কে যানচলাচল অবরোধ করে, বেলা ১২টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে ছয় ঘণ্টা পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার ( ১ জুলাই) ভোরে দিনাজপুর গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন ডাঙ্গাপাড়া মোড়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রহিমা বেগম দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার পাহাড়পুর এলাকার আব্দুল খালেকের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা (ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-৪৭৭৩) একটি পিক-আপ কাহারোল যাওয়ার পথে উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া নামকস্থানে বাঁক ঘোরানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি আমবাহী পিক-আপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় পিক-আপের যাত্রী রহিমা বেগম (৩৬) নিহত হন। এসময় একই পরিবারের তিনজন আহত হয়। একই সময় সংষর্ষে লাগা পিক-আপ দুটিকে সাইট দিতে গিয়ে আরো চারটি পিক-আপ, তিনটি নাইট কোচ ও একটি ট্রাকসহ আটটি যানবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার দু’পাশে পড়ে যায়। এছাড়া একটি গাড়ি বিদ্যুতের খুঁটির সাথে ধাক্কা লেগে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে যায়। এতে করে ট্রকের চালক ও হেলপারসহ আরো পাঁচজন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভূমি মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত এলাকাবাসীরা মহাসড়কে গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সড়ক ও জনপদের সাথে কথা বলে গতিরোধক স্থাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, বৃষ্টির জন্য রাস্তা পিছিল হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আশ্রাফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসীন্দারা সড়ক অবরোধ করে গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানায়। উপজেলা ও জেলা প্রশাসন সড়কে গতিরোধক স্থাপনের আশ্বাস দেয়ায় এলাকাবাসী সড়ক অবোরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এতে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। নিহত রহিমা বেগমের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।




