ফলোআপ : স্ত্রী হত্যার অভিযোগে কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুড়ি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে কর্মরত কনস্টেবল কে বি মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে আরো তিনজনকে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হাছিনা রৌশন জাহানের আদালতে মঙ্গলবার দুপুরে নিহত শামীম আরার ভাই মো. মাসুদ রানা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। (মামলা নম্বর ৩৭৪/২০১৬). বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে পি.বি.আই (পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো) কে তদন্তের নির্দেশ দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল সরকারি কৌসুলি (পিপি) একেএম নুরুল হুদা রুবেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- কনস্টেবল কে বি মুরাদ হোসেন, তার বাবা সাবেক পুলিশ সদস্য আব্দুল বাতেন, ভাই পুলিশ সদস্য রাসেল হোসেন (আপেল) ও চাচা পুলিশের হাবিলদার আব্দুস সালাম। তাদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইলের চাষাভাদ্রা গ্রামে।
নিহতের ভাই মাসুদ তার মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, প্রায় ২৪ বছর আগে মুরাদ ও শামিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুক হিসেবে কনস্টেবল মুরাদকে টাকা পয়সা দেওয়া হয়। এর আগে মুরাদ আরেকটি বিয়ে করেছেন। আগের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য শামিমার বাবার কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা নেন মুরাদ। এরপর থেকে মাঝেমধ্যে মুরাদ টাকার জন্য শামিমাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। এসব কাজে অন্য আসামিরা তাঁকে সহায়তা করতেন। প্রায় এক বছর আগে যৌতুকের টাকার জন্য শামিমাকে মারধর করে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন মুরাদ। পরে জমি বন্ধক রেখে রূপালী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখা থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মুরাদকে দেওয়া হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ করে আবারও মুরাদকে দেওয়া হয়। বিষয়টি মুরাদের বাবা, ভাই ও চাচাকে জানালে তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, তার বোন ছাড়াও মুরাদের অন্য নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া মুরাদ আরো একটি বিয়ে করার পাঁয়তারা করছিলেন। এসব বিষয়ে তার বোন প্রতিবাদ করলে তার ওপর নির্যাতন আরো বেড়ে যায়। মুরাদ পরিবারের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে তার বোনকে হত্যা করেছেন। বাদী মাসুদ আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেছেন, আসামিরা পুলিশ সদস্য হওয়ায় থানায় মামলা করতে গেলে তারা মামলা নেয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে ডিউটি শেষ করে ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার ভাড়া বাসায় ফেরেন কনস্টেবল মুরাদ। এসময় তার স্ত্রী বাসার গেট খুলে দিতে গেলে মুরাদের গাড়িটি (পুলিশের রিকুইজিশনের একটি লেগুনা) গেটের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে গেটের দেয়াল ভেঙে শামিম আরার উপরে পড়লে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর তাঁকে স্থানীয় মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন মুরাদ। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। শামীম আরা জেলার দৌলতপুর উপজেলার শ্যামপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
মুরাদ হোসেন গতকাল মুঠোফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা ও সাজানো।




