জাতীয়শিরোনাম

প্লাবিত চিলমারী, রেল যোগাযোগ বন্ধ

পানি বন্দী হয়ে পড়েছে গোটা চিলমারী উপজেলা। ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলাটির সবকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে করে বন্ধ হয়ে গেছে কুড়িগ্রাম-চিলমারী রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমনকি সড়কও পানিতে ঢুবে যাওয়ার মত শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেখা বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে উপজেলা কার্যালয় ও থানার মধ্যেও।
বিপদ জনক অবস্থায় চিলমারী খাদ্য গুদাম ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সাব-স্টেশন। কারণ যে কোনো মুহুর্তে সেখানে পানি প্রবেশ করতে পারে। এমতাবস্থায় ঝুঁকির কারণে উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ পরিচালনা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আজিজুল হক।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম জানান, উপজেলা পরিষদের নিচতলায় পানি প্রবেশ করেছে। চরাঞ্চলের পাশাপাশি উপজেলা শহরের প্রায় প্রতিটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৭০-৮০টি পরিবারের ঘরবাড়ি।
শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম বলেন, ‘এবার বন্যা ৮৮ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়েছে। আমি নিজে ওই বন্যার প্রত্যক্ষদর্শী। তখন এতো মানুষও ছিল না। পানি এত বেশি প্লাবিত হয়নি, এতো ক্ষয়ক্ষতি ও হাহাকারও ওঠেনি। এবারের বন্যা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে।’
বন্যায় সৃষ্ট দুরবস্থার নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘মানুষের এখন শুকনো খাবার আর বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজন। মানুষ রান্না করার জায়গা পাচ্ছে না। তাই শুকনো খাবার না পেলে কষ্ট আরো বাড়বে।’
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার (ডিআরএম) মো. শফিকুর রহমান। মূলত রেললাইনের উভয় পাশে বন্যার পানি প্রবেশ করায় এবং দুর্গত লোকজন রেললাইনের ওপর আশ্রয় নেয়ায় রেলপথটি বন্ধ রাখা হয়।
ডিআরএম মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বন্যার পানিতে কুড়িগ্রাম-চিলমারী রেলপথের উলিপুর অংশের কয়েক জায়গা প্লাবিত হয়েছে। আরো কয়েক জায়গায় পানি রেলপথ ছুঁই ছুঁই করছে। এ অবস্থায় ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেই বিবেচনায় কুড়িগ্রাম-চিলমারী রেলপথে ট্রেন আপাতত চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তিস্তা-কুড়িগ্রাম ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা প্রকাশ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার সবকটি নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করছি, বৃহস্পতিবার রাত থেকে একটা ভালো পরিবর্তন হবে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাফিজুর রহমান জানান, ১৭ জুলাই পর্যন্ত কুড়িগ্রামের বন্যা দুর্গতদের জন্য ৫শ’ মেট্রিকটন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং নয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বাংলা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button