বিবিধশিরোনাম

প্রিয়া সাহার তৎপরতা এসাইলামের লোভ নয়, দেশ বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ও গুরুতর মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা। এরকম একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড়ে ওঠে।
নানা মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে, প্রিয়া সাহার এই ঔদ্ধত্যের খুঁটির জোড় কোথায়, তা অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা যেতে পারে। সরকারকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে- এই সরকার বারো বছর ক্ষমতায়, প্রিয়া সাহার দাবি অনুযায়ী সংখ্যা লঘু গুমের ঘটনা যদি সত্যি হয়, তবে বর্তমান সরকার তার দায় এড়িয়ে যাবে কিভাবে? তার অভিযোগ সত্যি হলে যেমন সরকারকে এর জবাব দিতে হবে, যদি মিথ্যা হয় তাহলে অবশ্যই প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে দেশের রিরুদ্ধে এমন ডাহা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার সাহস আর কেউ দেখাতে না পারে।
গত বুধবার জুলাই প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশে নাকি ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এরপর তিনি বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি। ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীলতার স্বরূপ এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান। কারা এমন নিপীড়ন চালাচ্ছে? ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘দেশটির মৌলবাদীরা এসব করছে। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।’
গত ১৮ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ২৭টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। এই নারীও সেদিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। তখন তিনি এই অভিযোগ করেন।

পরিবারের সঙ্গে প্রিয়া সাহা। ছবি: ফেসবুক

এ প্রসঙ্গে শফি আহমেদ নামে একজন রাজনীতিক প্রিয়া সাহার বিষয়ে তার ফেসবুব পেজে লিখেছেন, ‘মানুষ নানান কারণে দেশের সাথে বেইমানি করে, ক্ষমতার লোভে, অর্থের লোভে, জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে..কিন্তু প্রিয়া সাহা এই ক্যাটাগরিতে পড়ছে না, তাহলে এর পেছনে মোটিভ কী !’ শফি আহমেদের মতো আরো অনেকেই প্রিয়া সাহাকে নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া বা মতামত ফেসবুকে তুলে ধরেছেন। কেউ কেউ এমন বলছেন, প্রিয়া সাহার তৎপরতা এসাইলামের (শরণার্থী) লোভ নয়, এটি দেশবিরোধী গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। এর পেছনে আর কে আছে এটা অবশ্যই বের করতে হবে।
এদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সম্প্রতি এক বাংলাদেশি সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয়। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মিলার এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম ৮ মাসের দায়িত্ব পালনকালে আমি বাংলাদেশের আটটি বিভাগেই ঘুরেছি। মসজিদ, মন্দির ও চার্চে গিয়ে ইমাম পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন আমি এসেছি একটি বৌদ্ধ মন্দিরে, আমার কাছে যেমনটা মনে হয়েছে, এখানকার ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসের লোকজন একে অপরকে শ্রদ্ধা করে। তাই আমি মনে করি, তার অভিযোগ সঠিক নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। যদিও কোন দেশই সংখ্যালঘুদের অধিকার দিতে সফলতা পায়নি।’
প্রিয়া সাহার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করবে না এবং করেও না। কারণটা হলো, আমাদের এটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পরিশ্রমের ফলে আমরা অর্জন করেছি, যেটা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘুদের নিয়ে বাংলাদেশের নারী প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তা নিশ্চয়ই কোন চক্রান্ত ও উদ্দেশ্যমূলক।
এ দিকে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে করা প্রিয়া সাহার অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেন, আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের এনজিওদের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তর মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button