
টাইম স্কেল ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছেন জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষক মহাজোটের ব্যানারে এ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, রোববার (২৩ আগস্ট) তারা দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেবেন।
এবিষয়ে মহাজোটের সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের জন্য চাকরিকাল গণনা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদির প্রাপ্যতার বিষয়ে ১২ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় যে পরিপত্র জারি করেছে তা প্রত্যাহার করবার দাবিতে এই আন্দোলন।
তিনি আরো বলেন, তাদের পদোন্নতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সিলেকশন গ্রেড নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। এসব সমস্যার সমাধান চান তারা।
প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার পর ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবেন। এরমধ্যে সুরাহা না হলে ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি স্কুল জাতীয়করণ করেন। এতে লক্ষাধিক শিক্ষকের চাকরি তিন ধাপে জাতীয়করণ হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ৬১ হাজার শিক্ষক টাইম স্কেল প্রাপ্য। এসব শিক্ষকের চাকরিও ১৯৭৪ সালের বিদ্যালয় জাতীয়করণ অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকারি হয়েছে।
কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারির এক চিঠিতে ১৯৭৫ সালে শিল্পপ্রতিষ্ঠান যে অধ্যাদেশবলে জাতীয়করণ হয়েছে, সেটি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দেখানো হয়। অন্যদিকে ২০১৩ সালের যে অধ্যাদেশে স্কুলগুলো জাতীয়করণ হয়েছে সেটির ৯ ধারায় শিক্ষকদের ‘কার্যকর চাকরিকাল’ গণনা, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং টাইম স্কেল দেয়ার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ প্রযোজ্য বলা হচ্ছে।
এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয় মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে যে ৪৮ হাজার ৭২০ শিক্ষক টাইম স্কেল নিয়েছেন তা ফেরত দিতে বলেছে। পাশাপাশি আটকে থাকা টাইম স্কেল আরও অন্তত ১৩ হাজার শিক্ষক গ্রহণ করতে পারবেন না।
সূত্র জানায়, টাইম স্কেল সংক্রান্ত এই জটিলতার উদ্ভব হয়েছে পুরনো সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের পদে চলতি দায়িত্ব দেয়াকে কেন্দ্র করে। ২০১৭ সালে এ ধরনের প্রায় ১৮শ’ জনকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়। তখন নতুন-পুরনো উভয় ধরনের স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে মাঠপর্যায় থেকে তালিকা পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু ডিপিই’র তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তারা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ডেকে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চাকরিকাল ধরে জাতীয়করণকৃত স্কুলের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে মৌখিক নির্দেশ দেন। ফলে জাতীয়করণ শিক্ষকরা জ্যেষ্ঠতায় পিছিয়ে পড়েন। এতে চলতি দায়িত্বে সব পদই দখল করে নেন পুরনো স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা। এই নির্দেশনাও ২০১৩ সালের বিদ্যালয় জাতীয়করণ অধ্যাদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা এটির ৯ নম্বর ধারায় বেসরকারি চাকরিজীবনের অর্ধেক সময় ‘কার্যকর চাকরিকাল’ হিসেবে ধরার নির্দেশনা আছে।
এরপর গত ১১ মার্চ মহাহিসাব নিরীক্ষকের দপ্তর অর্থ মন্ত্রণালয়ে টাইম স্কেলের ব্যাপারে চিঠি পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় ফিরতি চিঠি পাঠায়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হায়াত মো. ফিরোজ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, কার্যকর চাকরিকাল কেবল ২০১৩ সালের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক (চাকরি শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালার ১০ নম্বর ধারায় উল্লিখিত শুধু পেনশন গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২০১৪ সালের ৫ জুন টাইম স্কেল গণনার ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র বিধিসম্মত নয়। এতে শিক্ষকদের গ্রহিত টাইম স্কেলের অর্থ ‘আদায়যোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ৪৮ হাজার ৭২০ শিক্ষককে উপজেলা পর্যায়ের যেসব হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে টাইম স্কেল দিয়েছে সেসব দপ্তরের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও বলা হয়েছে।
পূর্বপশ্চিম




