প্রাণ দিয়ে পণবন্দি সঙ্কটের অবসান ঘটালেন ফরাসি পুলিশ

ফ্রান্সে এক পণবন্দি সঙ্কটের মাঝে পুলিশের একজন অফিসার যেভাবে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন তা নিয়ে সারা দেশে তার ভূয়সী প্রশংসা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ তাকে একজন জাতীয় বীর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
লে. কর্নেল আর্নো বেলট্রম শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের এক ছোট শহর খেবে-তে এক সুপারমার্কেট জিম্মি হওয়া এক নারীর বদলে নিজেকে পণবন্দিকারীর হাতে সঁপে দেন।
তার এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে পণবন্দি সঙ্কটরে অবসান ঘটে, যাতে প্রাণে বেঁচে যান বেশ কিছু মানুষ।
কিন্তু গুলিতে আহত বেলট্রম হাসপাতালে মারা যান।
হামলাকারী রেদোয়ান লাখদিম, যিনি নিজেকে ইসলামিক স্টেট-এর একজন অনুসারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মরক্কো থেকে আসা রেদোয়ান লাখদিম শুক্রবার ফরাসি শহর কারকাসনে গিয়ে একটি গাড়ি ছিনতাই করেন।
এসময় তিনি গাড়ি আরোহীকে গুলি করে হত্যা করেন। ড্রাইভারকেও আহত করেন।
এরপর তিনি খেরে-এর একটি সুপারমার্কেটে ঢুকে চিৎকার করে বলেন যে তিনি দায়েশ (ইসলামিক স্টেট)-এর একজন যোদ্ধা।
এসময় তিনি আরও দু’ব্যক্তি – একজন ক্রেতা এবং একজন দোকান কর্মচারীকে গুলি করে খুন করেন।
সুপারমার্কেটে উপস্থিত অন্য খদ্দেরদের তিনি পণবন্দি হিসেবে আটক করেন।
পুলিশ তার সাথে আলোচনার মাধ্যমে কিছু পণবন্দিকে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হলেও জিম্মিকারী একজন মহিলাকে মানব ঢাল হিসেবে আটকে রাখেন।
এসময় লে. কর্নেল আর্নো বেলট্রম ঐ নারীর জায়গায় নিজেকে পণবন্দিকারীর হাতে সঁপে দেন।
এটা করার সময় তিনি তার নিজের মোবাইল ফোনটি চালু অবস্থায় টেবিলের ওপর রেখে দেন।
পুলিশ বাইরে থেকে ঐ ভবনের ভেতরে কথা বার্তা শুনতে পান।
এরপর হঠাৎ করে ফোনে গুলির শব্দ শোনা গেলে ফরাসি কমান্ডোরা ভেতর ডুকে পড়ে এবং রেদোয়ান লাখদিমকে হত্যা করে।
কিন্তু গোলাগুলির সময় লে. কর্নেল আর্নো বেলট্রম গুরুতরভাবে আহত হন।
পরে শনিবার সকালে হাসপাতাল থেকে তার মৃত্যুর ঘোষণা করা হয়।
বিবিসি বাংলা




