slider

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাসহ গুণেভরা তাল গাছ রোপন করি

মো. নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : বৈশি^ক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাল মানুষ ও প্রকৃতির পরমবন্ধু। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা,খড়া, বজ্রপাত মোকাবেলায় তাল গাছ বুক পেতে দেয় মানুষ ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায়। শুধু এতেই শেষ না,পাখিদের নিরাপদ আবাস গড়তে তাল গাছ বনায়ন বিশেষ করে বাবুই পাখির বাসার নির্ভরযোগ্য স্থান। তাল গাছ তীব্র খরা সহনশীল গাছ। এই গাছ জল ছাড়া দীর্ঘদিন বাচঁতে পারে। তাছাড়া গাছের গোড়ায় দীর্ঘদিন জল জমলে ও সহজে মারা যায় না। তাল গাছের শিকড় মাটির বেশী গভীরে পৌচ্ছে না তবে গুচ্ছ মূল গুলো চারদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে। প্রাকৃতিক প্রতিকুলতা থেকে চারপাশকে রক্ষা ও ভুমির ক্ষয়রোধ করে। তালের পাতার আগা সূচালো হওয়ার বজ্রপাত নিরোধক গাছ হিসেবে পরিচিত। দেশের ঝড় ও বজ্রপাত রোধে দেশের সব অঞ্চলে তাল গাছ রোপন করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।


গত ২০১৪ সালে ঘিওর উপজেলার কলতা গ্রামের একদল যুবক ও স্থানীয় সেচ্ছাসেবীদের নিয়ে গ্রামের মেঠো পথের ধার দিয়ে সারিবদ্ধভাবে তাল গাছ রোপন করায় এবং পূর্বের গাছ মিলে এখন যেন তার গুণাগুণ ও সৌন্দর্য্য দৃশ্যমান হচ্ছে। যার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিরাট অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ^াস করি। গ্রাম কি শহরের সব শ্রেনীর মানুষের কাছে তালের কুই ও তালের রস বেশ জনপ্রিয়।
তেমনী একজন তাল গাছ চাষি ঘিওর উপজেলার উভাজনী গ্রামের মো,জবেদ আলী (৭০) বলেন- বৈশাখ- চৈত্র মাসে তালের রস প্রতি গøাস ১৫ টাকা করে বিক্রি করলেও রসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই রসে গরমের ভিতর অনেক উপকার কৃষকরা জমিতে কাজ করে এসে তালের রস পান করে থাকে। তিনি বারসিকের সহযোগিতায় নালী গ্রামের আলোর পথের যুবক মাইকেল আকাশ, হাসান, রাজিব, মানিক, দিপ্ত সেনদের সহযোগিতা নিয়ে তালের বীজ সংগ্রহ ও রোপনের কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে। তাদের এই তালের বীজ রোপন দেখে অনেক উদ্যমী মানুষ নিজ বাড়িতে ও রাস্তার পাশে তাল বীজ রোপনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
উল্লেখ্য যে-তাল গাছ আমাদের পরিচিত গাছ হলেও বেশ অবহেলিত। তাল এখনো পযর্ন্ত বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছেনা। আমাদের দেশে তাল গাছ রাস্তার পাশে এমন কি জমির আইলের দুই পাশ দিয়ে এবং খাল ও কেনালের পাশ দিয়ে শোভা বধর্নে রোপন করা হয়। পরিবেশবান্ধব তাল গাছ পরিবেশের ভারসাম্য যেমন আনবে তেমনি কৃষি অর্থনীতিকে করবে বেগবান। এছারাও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঘটনা খুব বেশী লক্ষ করা যাচ্ছে। গবেষকদের মতে, তাল গাছ রোপন করেন তাল গাছ প্রকৃতির রক্ষাবর্ম। ইহা বজ্রপাতের ঘটনায় মানুষের মৃত্যর সংখ্যা অনেকাংশ হ্রাস করতে পারে। অথনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি ঘূর্নিঝড়,বর্জ্রপাত ও প্রাণ-প্রকৃতি সহ ঘরবাড়ি রক্ষা করতে পরিবেশ উন্নয়নে তালগাছ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। সাধারনত আগষ্ট মাস থেকে তাল পাঁকতে শুরূ করে অক্টোবর মাস পযর্ন্ত বাজারে তাল পাওয়া যায়। তালের পিঠা তালের বড়া ও তালের গোলা এই অঞ্চলের মানুষের বেশ জনপ্রিয়। গরমের সময় তালের পাতা দিয়ে তৈরী পাখা মানুষের ঘরে ঘরে সবাই ব্যাবহার করে। গ্রামের লোকেরা তালের পাখা নিয়ে কিচ্ছা বলে থাকে-যেমন- শীতের দিনে কওনা কথা গরমের দিনে প্রানের সখা। এছারাও তালের কুই/আষ খেয়ে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পুরন হবে। এবং তালে রসের গুড়ের পায়েস,তাল মিছড়ি,তারিসহ প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে তালের কুই ও রসে। সভ্যতার বিকাশেও ও তালপাতা ভুমিকা রয়েছে অনেক। কাগজ আবিস্কারের আগে মানুষ তালপাতায় তাদের জীবনকাহিনী ও ধর্মের বাণী লিখে রাখতেন। যাহোক সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে তাল চাষের বিস্তার ঘটাতে যুবক, কৃষক সবাই মিলে একসাথে কাজ করতে চাই। কেবল বজ্রপাত থেকে নয় সকল প্রকার প্রকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষ ও প্রকৃতি সুরক্ষা পাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button