প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ কমবে : অর্থ পাচার বাড়বে

অর্থনৈতিক ডেস্ক : প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে সরকারের বড় অংকের ঋণ নেয়ার ঘোষণায় প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগ প্রাপ্তির সুযোগ কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠনগুলো।
অন্যদিকে ব্যাংকে রাখা আমানতের ওপর বাড়তি আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাবকে তারা দেখছেন বিদেশে অর্থ পাচার হয়ে যাওয়ার সমূহ কারণ হিসেবে।
আজ শনিবার প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোর উদ্দেশ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়।
এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম খান, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান, প্লাস্টিকদ্রব্য প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন, ঢাকা উইমেন চেম্বারের সভাপতি আনিকা আগা, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, এফবিসিসিআইর প্রথম সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ প্রমুখ।
মূলধন গঠন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তথা সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য গ্রাহকরা ব্যাংক লেনদেন করে থাকেন মন্তব্য করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাজেটে ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক বিভিন্ন হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে আমানতকারী আমানত রাখতে নিরুৎসাহিত হবেন। এছাড়া ব্যাংক চ্যানেলে না গিয়ে ইনফরমাল চ্যানেলে অর্থ চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। স্বাস্থহানিকর পণ্য ছাড়া অন্য কোনো খাতে আবগারি শুল্ক আরোপ করা সমীচীন নয় বলেও দাবি করেন তিনি। ব্যাংক খাত থেকে আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, এক লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে রাখলে ৮০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হবে। যা বর্তমানে আছে ৫০০ টাকা। আর ১০ লাখ টাকার উপর থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে টাকা রাখলে দুই হাজার ৫০০ টাকা কেটে রাখা হবে, যা বর্তমানে আছে এক হাজার ৫০০ টাকা। একই সাথে এক কোটি টাকার উপর থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে রাখলে আবগারি শুল্ক দিতে হবে ১২ হাজার টাকা, যা বর্তমানে আছে সাত হাজার ৫০০ টাকা। আর পাঁচ কোটি টাকার বেশি ব্যাংকে টাকা রাখলে কেটে রাখা হবে ২৫ হাজার টাকা, আবগারি শুল্ক বাবদ কেটে রাখা হয় বর্তমানে ১৫ হাজার টাকা।
কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বার্ষিক টার্নওভার বর্তমান ৩০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ করার প্রস্তাবকে অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ক্ষুদ্র, গ্রামীণ উদ্যোগ, কুটির শিল্প, ইত্যাদি প্রান্তিক খাতের বিকাশে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা দোকানদারদের হিসাবরক্ষণের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে অব্যাহতির এ সীমা আরো বাড়ানোর দাবি পূণরায় উত্থাপন করেন তিনি। টার্নওভার ট্যাক্স এক শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এটি পূর্বের ন্যায় রাখতে হবে। প্রস্তাব করেন টার্নওভারের সীমা পাঁচ কোটি বা যৌক্তিক করার। মূসক আইনের ৩১ ধারায় বর্ণিত তিন অংশের অগ্রিম কর সম্পর্কিত বিধান বিলুপ্ত করারও দাবি জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমরা হ্রাসকৃত হারে বিভিন্ন স্তরে মূসক হার নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু বাজেটে ১৫ শতাংশ সিঙ্গেল রেট করা হয়েছে। এতে দেশের শিল্পখাত, বিশেষ করে এসমই ও প্রান্তিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেসব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী হিসাবপত্র ঠিকভাবে রাখতে না পারায় রেয়াত নিতে সক্ষম নন তাদের ওপর করের বোঝা বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে ক্রেতার ওপর। এতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। এজন্যে ভ্যাটে হার নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকার করার প্রস্তাব করা হয়। দাবি করা হয় করপোরেট কর আরো আড়াই শতাংশ কমানোর। জোর দাবি জানানো হয়, আমদানী পর্যায়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি, মৌলিক কাঁচামাল, মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও উপকরণের ওপর অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের। দাবি জানানো হয় রফতানির ক্ষেত্রে প্রণোদনা কিংবা কর রেয়াতের। তৈরিপোশাক রফতানিকারকদের জন্য করপোরেট কর ১০ শতাংশ নামিয়ে আনার অনুরোধ জানান সাবেক এই বিজিএমইএ সভাপতি। প্রস্তাব করেন নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা প্রসারে ই-কমার্সের ওপর থেকে করপোরেট কর প্রত্যাহারের। সুত্র ঃ নয়া দিগন্ত



