
বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে ভারতগামী ক্যানসার আক্রান্ত আরজিনা খাতুন নামে এক পাসপোর্ট যাত্রীকে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে ১৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে চিহ্নিত ছিনতাইকারীরা। বুধবার সকালে ভ্রমন কর দ্রুত করে দেওয়ার নাম করে বেনাপোল বন্দর বাস টার্মিনাল থেকে ডেকে নিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় ডালিম নামের এক ছিনতাইকারী ও তার দলবল।
এদিকে প্রতিনিয়ত এভাবে পাসপোর্টধারীরা প্রতারনার শিকার হলেও জোর কোন পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের। ছিনতাইয়ের শিকার নারী বগুড়ার মালতিকার শুড়া গ্রামের আলী হোসেনের স্ত্রী ক্যান্সার রোগী আরজিনা খাতুন। তার পাসেপোর্ট নম্বর এ-০০৫৫৬১৪২। এরপর ওই নারীর কান্নাকাটির পর স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের নিরাপত্তার দায়িত্বে এপিবিএন পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই টাকা উদ্ধার করতে পারলেও ছিনতাইকারী ডালিমকে আটক করতে পারেনি।
পুলিশের তালিকায় চেকপোষ্ট এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও প্রতারকরা হলো, বেনাপোল পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে শোয়েব আক্তার (২৮), একই গ্রামের শেখ রাহাদ অন্তর (৩৫), আব্দুল কাদের (৩৩), বেনাপোল পৌরসভার সাদিপুর গ্রামের সাহাজুল ইসলামের ছেলে আসাদুল, ইশার উদ্দিনের ছেলে মিরাজ, ভবারবেড় গ্রামের সমেদ হাওলাদারের ছেলে শামিম, ঘিবা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রনি, বড় আঁচড়া শহিদুল ইসলামের ছেলে ইমরান। এছাড়া সাইদুর সুপার মার্কেটের বাবুল, রেজাউল সুপার মার্কেটের হামিদ, ইউনুস সুপার মার্কেটের রবি, সয়েব, ইবাদত, হৃদয়, শিমুল ও ইমারুফ।
বেনাপোল বন্দর আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সন্তুু জানান, ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেনাপোল বন্দরে আসে। এসময় বন্দর বাস টার্মিনালের সামনে থেকে দ্রুত ভ্রমন কর জমা দেয়ার সহযোগিতার কথা বলে ঐ নারীকে পাশ্ববর্তী ইউনুচ মার্কেটে নিয়ে যায় সে ও তার সহযোগীরা। পরে যাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঐ যাত্রী পরে অভিযোগ দেয়। ঘটনার পর থেকে ছিনতাইকারী পলাতক রয়েছে। বিষয়টি পোর্ট থানা ওসিকে জানানো হয়েছে।
চেকপোস্টের সাধারন ব্যবসায়ীরা জানান, এভাবে প্রতিদিন এ চেকপোষ্টে কোন না কোন পাসপোর্টযাত্রীর টাকা ছিনিয়ে নিয়ে নির্বিঘেœ পালিয়ে যাচ্ছে ছিনতাইকারীরা। দুর দুরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা অবশেষে কুল-কিনারা না পেয়ে তাদের গন্তব্যে চলে যেতে বাধ্য হয়। এসব ছিনতাইকারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন চিনলেও তারা গুরুত্ব সহকারে আবার সাক্ষীর অভাবে এ বিষয় তেমন মাথা ঘামান না। মাঝে মধ্যে দুই একজনকে ধরে চালান দিলেও তারা আবার আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবারও এ কাজে নেমে পড়ে। চেকপোষ্টে সব সময় প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা থাকে। তাদের উপস্থিতিতে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও জোরালো পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের।
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক সজিব নাজির জানান, পাসপোর্টধারীদের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা দুঃখজনক। মাঝে মধ্যেই টাকা উদ্ধার করে দেয়া হয় যাত্রীদের। বন্দর এলাকায় ওদের বিরুদ্ধে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল মিয়া জানান, ছিনতাই ও প্রতারনার অভিযোগে ইতিপূর্বে চেকপোষ্ট এলাকার একাধিক দোকানে তালা মারা হয়েছে। এছাড়া অনেককে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তারা বার বার জামিনে এসে আবার প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতারকদের কাছে পাসপোর্ট দেওয়া থেকে যাত্রীদের বিরত থাকতে আহবান জানান তিনি।




