sliderস্থানিয়

প্রয়াত উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ কে এম নূরুল ইসলামের সহধর্মিণী কবি জাহানারা আরজু’র মৃত্যু

মোহাম্মদ আলী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রয়াত উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ কে এম নূরুল ইসলামের সহধর্মিণী কবি জাহানারা আরজু (৯৪) ইন্তেকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০ টায় হরিরামপুর উপজেলার কবি জাহানারা আরজু উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কবি জাহানারা আরজু ১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরের বনগ্রাম চকের (বর্তমানে গংগাধর পট্টি) পৈত্রিক বাসভবন ‘বনশ্রী’তে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতার নাম আফিল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মাতা খোদেজা খাতুন। পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে কবি জাহানারা আরজু ছিলেন সবার বড় ।

কবি জাহানারা আরজু মানিকগঞ্জ সুরেন্দ্রকুমার গার্লস হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ এম.এ পাশ করেন।

১৯৪৫ সালে অবিভক্ত বাংলায় ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকার ‘মুকুলের মহফিল’ এ তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা হয়। কবি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। তখন থেকেই বিখ্যাত সওগাত, মোহাম্মদী, বেগম, মিল্লাত, ইত্তেহাদ, দিলরুবা, মাহেনও, ইত্তেফাক, সংবাদ, দৈনিক বাংলায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছিলো।

১৯৫২ সনে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সময় শহীদদের জন্য নিবেদিত হয় তাঁর কবিতা। তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। প্রত্যক্ষভাবে এই আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। সে সময় তাঁর লেখা ‘রাজপথ’ কবিতাটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

এছাড়াও কবি জাহানারা আরজু বিভিন্ন সময়ে রেডিও,টিভিতে সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, পরিচালনা ও সম্পাদনা করেছেন। তার লেখা কাব্য নৃত্য নাটক ‘সাতটি পরীর দেশে’ বিভিন্ন সময়ে মঞ্চে ও রেডিওতে অভিনীত হয়ে প্রশংসিত হয়েছে।

কালজয়ী এ নক্ষত্রের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

হরিরামপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস) হরিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, কবি জাহানারা আরজু,র অবিভক্ত বাংলা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষ নারী কবিদের অন্যতম। এমনকি তিনি একুশে পদকে’র মত গৌরবজনক পদক অর্জন করেছিলেন।
তার মৃত্যুতে আমরা হরিরামপুর প্রেসক্লাব গভীর শোকাহত ও গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

এছাড়াও সমাজের সুশীল ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোকাহত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীতে ঢাকাস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন ।

মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি নাতনি ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
উনার বড় ছেলে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম (রানা) বত’মানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

জানাজা শেষে হরিরামপুরের পূর্ব খলিলপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে মরহুমার স্বামী প্রয়াত উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ কে এম নূরুল ইসলাম–এর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেন।

বিচারপতি এ কে এম নূরুল ইসলাম ও তার পরিবারের প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button