জাতীয়শিরোনাম

প্রভাবশালী রাষ্ট্রের ফাঁদে পড়ে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে সরকার

প্রভাবশালী কতিপয় রাষ্ট্রের বিনিয়োগ অভিযানের ফাঁদে পা দিয়ে সরকার কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
দেশে বাস্তবায়নাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে পরিবেশগত মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (০৬ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে ‘কয়লায় শ্বাসরুদ্ধ: কার্বন বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সরকারের প্রতি এ দাবি জানান।
প্রতিবেদন প্রকাশের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ (ডব্লিওকেবি)।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ওয়াটারকিপার্সের বাংলাদেশের কো-অডিনেটর শরীফ জামিল, সংগঠন ব্রতির নির্বাহী পরিচালক শারমিন মোর্শেদ প্রমুখ।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা একটি। সেখান থেকে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। একটির সঙ্গে আরও ২৯টি যোগ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট। সেগুলো বায়ুমণ্ডলে বার্ষিক ১১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করবে, যা পরিবেশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। দেশের দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কথা চিন্তা না করে শুধুমাত্র আমেরিকা, চীন, জাপান ও ভারতের মত প্রভাবশালী রাষ্ট্রের বিনিয়োগ অভিযানের ফাঁদে পা দিয়ে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার।
দেশে বাস্তবায়নাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো কোন বিপর্যয় তৈরি করবে কি না, তা নির্ধারণে অবিলম্বে প্রভাবমুক্ত সংস্থার মাধ্যমে পরিবেশগত মূল্যায়নেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। এসময় বক্তারা বলেন, বড় আকারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণের পরিকল্পনা মূলত বৈদেশিক ঋণ সহায়তা নির্ভর, যেটি সার্বিকভাবে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ বাড়িয়ে দেবে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য ভারসাম্য আরও প্রকট করে তুলবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশকে বার্ষিক ২০০ কোটি ডলার মূল্যের ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করতে হবে। যা বাংলাদেশে কয়েক দশকের জন্য উচ্চমূল্যের কয়লা আমদানির ফাঁদে ফেল। যেটি কিনা নতুন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কাও তৈরি করবে।
বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে, সেখানে বাংলাদেশে কয়লানির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন মূলত আত্মহননের নামান্তর। ইউনিসেফ ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সংঘটিত বন্যা ও সাইক্লোনসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে এক কোটি ৯০ লাখ শিশুর ভবিষ্যৎ হুমকির সম্মুখীন বলে সতর্কতা দিয়েছে। আর এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কয়লানির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রসমূহ বাংলাদেশকে গভীর সংকটে ফেলে দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাপার সাধারণ সম্পাদক এম এ মতিন, ডব্লিউকেবি কাউন্সিলর মেম্বার শরিফ জামিল এবং বাপার কার্যনির্বাহী সদস্য ও ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমীন মুরশিদ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button