
মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: “প্রযুক্তি সও মমতায়, কল্যান ও সমতায়, আস্থা আজ সমাজসেবায়” শ্লোগানে প্রতিবন্ধী শিশুদের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নলছিটি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নলছিটি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো জোবায়ের হাবিব।
সেমিনারে প্রধনি অতিথি হিসেবে উস্থিত থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঝালকাঠি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মিজান সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ১৭, ২০ এবং ২৯ অনুচ্ছেদে অন্যান্য নাগরিকের সাথে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান সুযোগ এবং অধিকার প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া,প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর তফসিল ১১ (৩) এ “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের, বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিবন্ধী শিশু, প্রতিবন্ধী মহিলা এবং বয়স্ক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের। পর্যায়ক্রমে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা জাল এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা’র কথা বলা হয়েছে। সাংবিধানিক এই দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ষৃষ্টির মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলস্রোতধারায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে ‘প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান কর্মসূচি’ প্রবর্তন করে। প্রারম্ভিকে এই কর্মসূচির উপকারভোগী ১২,২০৯ জন, বর্তমানে তা ১ লক্ষ জন। এই কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা স্তরের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বহনে সরকারি সহায়তা প্রদানের ফলে প্রতিবন্ধী শিশু এবং তাদের পরিবার শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার আন্তর্জাতিক ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৪.৫ পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সকল পর্যায়ে সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। সর্বোপরি, এই কর্মসূচির দরুণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা তার সক্ষমতা অনুযায়ী বিকশিত হবার সুযোগ লাভ করছে।
অর্থনৈতিক কারণে বহু প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষাজীবনে প্রবেশ করতে পারে না বা মাঝপথে ছিটকে পড়ে। উপবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রাথমিক খরচ,যেমন বই-খাতা-কলম, ইউনিফর্ম, ও যাতায়াত ইত্যাদির ব্যয় নির্বাহ সহজ হয়, ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নলছিটি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান পলাশের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন, নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অরিফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিউলি পারভীন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, নলছিটি প্রেসক্লাব-এর সহ সভাপতি দৈনিক বাংলাদেশের খবর-এর নলছিটি উপজেলা প্রতিনিধি মো: শাহাদাত হোসেন মনু প্রমুখ।




