
দিল্লির সাম্প্রদায়িক হামলায় উগ্রবাদীদের পাশবিক হামলায় মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ে গিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা শাবানা পারভিন। এর মধ্যে সুস্থ শিশুর জন্ম দিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাকে ‘মিরাকল বেবি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
জানা যায়, উত্তর-পূর্ব দিল্লির কারাওয়াল নগরের বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা শাবানা এবং তার স্বামীর ওপর হামলা চালায় একদল উন্মত্ত হিন্দুত্ববাদী।
সোমবার রাতে স্বামী, শাশুড়ি ও দুই সন্তান নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন শাবানা। এমন সময় হামলাকারীরা এসে তাদের ঘরের ওপর চড়াও হয়। মুসলিম দম্পতিটির ঘর জ্বালিয়ে দেয় তারা। পেটে উপর্যুপরি পাশবিক লাথিতে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ে যান শাবানা সেই সঙ্গে তার অনাগত শিশুও।
এমন পরিস্থিতিতে প্রাণে বেঁচে গিয়ে শাবানা বুধবার জন্ম দেন এক সুস্থ ছেলে সন্তানের। এই ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ হিসেবেই দেখছে সবাই।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে শাবানার শাশুড়ি নাসিমা বলেন, ‘তারা ধর্মীয় সহিংসতা সৃষ্টি করেছিল, আমার ছেলেকে ওরা মারধর করেছে। আমার পুত্রবধূর তলপেটে লাথি মারে। আমি তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আমার দিকেও তেড়ে আসে তারা। আমরা ভেবেছিলাম আমরা সেই রাতে বেঁচে থাকব না। আল্লাহর অসীম দয়ায় আমরা তাদের হাত থেকে পালিয়ে বেঁচেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত শাবানাকে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকেরা বলল আল হিন্দ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিল শাবানা।’
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি এবং সহায় সম্বল হারিয়ে পথে বসেছে পরিবারটি। এর মধ্যে আশার আলো হিসেবে জন্ম নিলো এই বিস্ময় শিশুটি।
নাসিমা জানান, হাসপাতাল ছাড়ার পর তারা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন কিছুই জানেন না।
তিনি বলেন, ‘সবই হারিয়ে গেছে। কিছুই বাকি নেই। এখন কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে দেখব, নতুন করে আবার জীবন শুরু করতে পারি কী না।’
গতকাল রাত ১০টার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পরিস্থিতি উন্নতির জন্য ১৪৪ ধারা জারি ১০ ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে গত ৩৬ ঘণ্টায় বড় কোনো ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
বিবৃতিতে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত সংঘর্ষ, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কিত ৪৮টি এফআইআর নিবন্ধিত হয়েছে এবং পরবর্তী আরও এফআইআর যথাযথভাবে নিবন্ধ করা হবে। এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫১৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে সহিংসতায় উসকানিদাতা বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার মতো ‘সহায়ক পরিবেশ’ এই মুহূর্তে নেই বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ‘যথাযথ সময়ে’ এ এফআইআর দায়ের করা হবে।




