
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের প্রয়াগরাজে পুলিশ পাহারায় থাকা অবস্থায় আততায়ীদের হাতে খুন হয়েছেন বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদ আতিক আহমেদ এবং তার ভাই আশরাফ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, আতিক আহমেদের শরীরে মোট আটটি গুলির সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া আশরাফকে লক্ষ্য করে আরো পাঁচটি গুলি ছোড়ে আততায়ীরা। সবকটি গুলি পাওয়া যায়নি। মোট ২২ সেকেন্ড ধরে গুলি চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যোগী আদিত্যনাথ রাজ্য সরকারের পুলিশ অবশ্য ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করেছিল। সেই পুলিশের উপস্থিতিতেই তাদের হত্যা করা হয়।
প্রথমেই আতিকের মাথায় গুলি করা হয়। তারপর একে একে গুলি লাগে তার ঘাড়ে, বুকে ও কোমরে। আতিকের ভাই আশরাফের ঘাড়ে, পিঠে, কব্জিতে, পেটে ও কোমরে গুলি লেগেছে। তার দেহের মধ্যে পাওয়া গেছে তিনটি গুলি। বাকি দু’টি আশরাফের শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যে পিস্তল দিয়ে আতিক ও আশরাফকে গুলি করা হয়েছিল, সেটি ‘জিগানা’। তুরস্কের একটি সংস্থার তৈরি। মোট ২২ সেকেন্ড ধরে গুলি চালানো হয়।
গ্রেফতার হওয়া আতিক ও আশরাফকে শনিবার রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। হাসপাতাল চত্বরে হাঁটতে হাঁটতে সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলছিলেন দু’ভাই। এই সময় আচমকা তাদের লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালানো হয়। লাইভ ক্যামেরায় ধরা পড়ে ওই হত্যার দৃশ্য। আততায়ীরা পুলিশের চোখের সামনেই স্লোগান দিতে দিতে গুলি চালিয়েছিল। তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ, হাতে বুম নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মিশে ছিল আততায়ীরা। হঠাৎ সাংবাদিকদের মধ্যে দাঁড়ানো একজন তার হাতে ধরা বুম ও ক্যামেরা ফেলে দেয়, তারপরই পিস্তল বের করে পরপর গুলি চালায়। লুটিয়ে পড়েন আতিক ও তার ভাই। এ হত্যাকাণ্ডের পর উত্তরপ্রদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের নিরাপত্তাও বড়সড় প্রশ্নের মুখে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা




