
পতাকা ডেস্ক : নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের নামে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর নির্বিচার গুলি, টিয়ার গ্যাস চার্জ, কর্মী হত্যা, গণ-গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে বিরোধী মতের উপর অব্যাহত দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবি পার্টি। বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশার্থে এক বিবৃতিতে এবি পার্টির আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী ও সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বিনা উসকানিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ‘ট্রিগার হ্যাপি’ পুলিশ বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে এই অবৈধ সরকার অতীতের মত আবারও তার স্বৈরাচারিতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এতে একজন নিহতসহ দলটির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নেতা ও কর্মীদের উপর গণগ্রেপ্তার চালানো হয়েছে। আমরা বার বার সরকারকে এমন নৃশংস কায়দায় নাগরিকের সভা-সমাবেশ করার অধিকার হরণের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছি কিন্তু সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকারের বিষয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং করছেনা। পুলিশ ও সরকারী দলের যৌথ সন্ত্রাসে শান্তি এবং সমঝোতার পথ ক্রমশই রুদ্ধ হচ্ছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, নাগরিকদের সভা-সমাবেশ করার অধিকার দেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত। এটি কেড়ে নেয়ার সুযোগ কারো নেই। সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিরোধী পক্ষকে সভা-সমাবেশের জন্য অনুমতি নিতে বাধ্য করে অথচ সরকারি দলের সমাবেশের জন্য কোন অনুমতির প্রয়োজন হয়না। উপরন্তু সরকারী দলের সভার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করা সহ সভায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য স্কুল, কলেজ ও পরীক্ষা বন্ধের নজীরও হরহামেশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এভাবে সরকার গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং দেশের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন গোয়ার্তুমি ও স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব পরিহার করে সরকারের উচিত অবিলম্বে পদত্যাগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। দেশের বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার যেভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে তাতে দেশ চরম অনিশ্চয়তায় নিপতিত হবে বলে আমরা আশংকা করছি। সরকারের বোঝা উচিত, পরিস্থিতি এখন আগের মতো নেই। আন্তর্জাতিক বিশ্ব এই ভোটচোর সরকারকে সুস্পষ্ট ভাষায় ‘না’ বলে দিয়েছে। জনগণের দ্বারা ধিকৃত হওয়ায় সরকার দিন দিন বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। জাতিসংঘ অফিসিয়াল বিবৃতিতে ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে জাতিসংঘ-প্রণীত মানবাধিকার সনদের প্রতি দায়বদ্ধ হিসেবে “বাক-স্বাধীনতা”, “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা” ও “শান্তিপূর্ণ সমাবেশ” করার অধিকার রক্ষার ব্যাপারে তাগাদা দিয়েছে। এছাড়া পশ্চিমা দূতাবাসগুলোও সম্প্রতি একই সুরে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। তারা একযোগে স্বাধীন মতপ্রকাশ-সমাবেশ এবং একটি সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশা “পুনর্ব্যক্ত” করেছে। এবি পার্টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে এসব বিষয়ে সহমত পোষণ করে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বিএনপিকে তাদের পছন্দসই জায়গায় সমাবেশ করতে দেয়ার, নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নিহত ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবি পূণর্ব্যাক্ত করেন।




