পুলিশি হয়রানি বন্ধে আমরণ অনশনে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে পুলিশের হামলা-মামলা থেকে রেহাই পেতে আমরণ অনশন করছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। শনিবার সকাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম তার ছেলে, ছেলে বউ ও দুই নাতনিকে নিয়ে ভূঞাপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এই অনশন কর্মসূচী শুরু করেছেন। মুক্তিযোদ্ধার ছেলে বেলাল হোসেন, বেলালের স্ত্রী আলেয়া বেগম, নাততি ঋতি ও বিথী তাদের দুই শিশু সন্তান রয়েছেন।
আব্দুল হাকিমের অভিযোগ, ভূঞাপুর থানা পুলিশের কয়েকজন এসআই তার ছেলে বেলাল হোসেনকে সোর্স হিসেবে কাজ করতে বলে। তাদের সাথে কাজ না করলে মাদকের মামলাসহ বিভিন্ন মামলার ভয় দেখায়। বাধ্য হয়ে বেলাল পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করে। এতে স্থানীয় মাদকের কয়েকজনকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়। ধরিয়ে দেয়া ওইসব মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটাঅঙ্কের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পুলিশের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে ওইসব মাদক ও ব্যবসায়ীরা তার পরিবারের উপর নির্যাতন শুরু করেছে।
জানা গেছে, সোর্স হিসাবে কাজ করার পুরুস্কার স্বরূপ বেলালকে দেয়া হতো সামান্য কিছু নগদ টাকা ও মাদক। পুলিশের দেয়া মাদক বিক্রি করে এক সময় সে নিজেই ওঠে মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়া উদ্ধারকৃত মাদক বিক্রির দায়িত্বও দেয়া হয় তাকে। আর তার কাছে কিনতে আসা মাদকসেবীদের ধরিয়ে দেয়াই ছিলো তার অন্যতম দায়িত্ব। এক সময় বিষয়টি তার পরিবারের দৃষ্টিগোচর হলে পুলিশের পাতা এই ফাঁদ থেকে তাকে বের করে আনার চেষ্টা করে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা। বেলাল নিজেও এ অসহনীয় জীবন থেকে বের হয়ে আসতে চায়। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুলিশ। বেলাল স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে তাকে ফাঁসানো হয় মিথ্যা মামলায়। মামলা থেকে বাঁচতে বেলাল পুলিশের কাজ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এবং মামলা থেকে নাম কাটানোর জন্য বাদী এএসআই লিটন এবং এসআই বাদশাকে নলিনবাজারের ব্যবসায়ী নাসিরসহ কয়েকজনকে সাক্ষি করে নগদ ১২ হাজার তুলে দেয়। কিন্তু টাকা নিলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে নাম কাটা হয়না বেলালের। আবার নতুন করে পুলিশের ভয়ংকর ফাঁদের জালে আটকা পড়ে সে। থানার ওসিকে প্রতি সপ্তাহে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে বলে নতুন নতুন বড় বড় কাজ করিয়ে নেয়ার জন্য বাড়তে থাকে তার উপর অমানুষিক চাপ।
এদিকে পুলিশের কথামতো নিরীহ মানুষদের মাদক দিয়ে হয়রানি করায় এলাকাবাসীও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বেলাল ও তার পরিবারের উপর। ওদিকে পুলিশের কাজ থেকে বিরত থাকার কারণে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া, নতুন নতুন মামলা ও ক্রস ফায়ারের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। দুর্বিসহ ফাঁদ থেকে ফিরতে চাওয়া বেলাল ও বেলালের মুক্তিযুদ্ধা পরিবার নিরাপ্তাহীনতায় ভুগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জীবন ভিক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের এমন ভূমিকায় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাম্মদ আসলাম খান বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য যদি সামারি করার জন্য বা অন্য কোনো কারণে নিরীহ মানুষদের মাদক দিয়ে হয়রানি করে এবং তা প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের আইনের আওতায় এনে বিভাগীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
ইত্তেফাক




