
শাহীন রাজা : উনারা বিপ্লব করতে চেয়েছিলেন। পিতার পতিত শরীরের উপর লাল পতাকা ওড়াবেন ! দৃঢ় এবং সংকল্প হৃদয়ে তারা সে পথেই চলতে থাকেন।
তাদেরকে বঞ্চিত করে, উড়ে এসে জুড়ে বসা এক সংক্ষুব্ধ দল ! না পারা এই কাজটা এই সংক্ষুব্ধ দলটিই করে দেয়। শুরু হয় আরেক মনোঃকষ্ট। পারলাম না !
তারপরও পিতার মৃত্যুতে তারা মিষ্টি খেয়েছিলেন। আনন্দে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এবং গুলিস্তানের আশপাশে লিফলেট বিতরণ করেছে। “স্বৈরাচারের পতন হয়েছে” !
তাঁদের বিপ্লবী চিন্তাভাবনা দেখে আমরাও ঐ আদর্শে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ি। আমাদের সময় ছিল পিতার মৃত্যুর পরপরই। আমরা মুখোমুখি হই পিতার মৃত্যুর পর পরিবর্তিত রাজপথে। পরপর দুটি সামরিক সরকারের বিরোধিতায় আমি এবং আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা।
কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর, বিপ্লবীদের পালক একটা, একটা করে খসে পড়ে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের সুবিধা বৃত্তে ঢুকে যায়। রেখে দেয় বিপ্লবের সাইনবোর্ড।
সামন্ত রাজাদের মতো, বিশাল কর্মী গোষ্ঠীকে যে যার মতো ভাগ করে নেয়। রাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের সাথে, সাথে কর্মী গোষ্ঠী নিয়ে দাড়িয়ে যায়। মনসবদারী’র আকাঙ্খায়।
শেষ তারা হালুয়া রুটি’র ভাগ নেয় এক/এগারো পরবর্তী সরকারের কাছ থেকে। এক/এগারো’র এক বরকন্দাজ তাদের সাথে সর্বক্ষণ। ঐ বরকন্দাজের নাম আরবী থেকে বাংলায় অনুবাদ করলে দাড়ায়, “একনিষ্ঠ, সৎ, সরল এবং বিশ্বস্ত”। কিন্তু তাঁকে যারা নিয়োগ দিয়েছে তাঁদের সাথে যে আচরণ করে, তাতে এর কোনটাই তাঁর মাঝে খুজে পাওয়া যায় না। সম্পূর্ণ উল্টোটাই এ-ই ভদ্রলোক !
রাজনীতিতে, ২০২৪ এক মহাপ্রলয়। এ-ই মহাপ্রলয়ে রাজনীতির সকল ধান্ধাবাজি ভেসে গেছে। এর পরও বিপ্লবী’রা পুরাণো পরিচয়। বা এর,ওর হাত ধরে একটা গাঁটছড়া বাঁধার চেষ্টা চালায়। বোধহয় তেমন একটা সুবিধা হচ্ছে না।
তা-ই পিতার দ্বিতীয় মৃত্যুতে শোকাভিভূত। বিপ্লবের পতাকা ফেলে দিয়ে আশ্রয় খুজছে। পেতে চাইছে, পিতার উত্তরাধিকার অধিকার। শ্রাবণ শেষে যে মায়া চক্ষু জলের বর্ষণ। এ বর্ষণ বোধহয় আগামী অনেকদিন পর্যন্ত থাকবে। হয়-তো জীবনের দিন অবধি এই চক্ষু জল নিয়েই বিদায় নিতে হবে।
লেখক:সিনিয়র সাংবাদিক




