আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

পালিয়েছেন সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায়ের আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তিনি সিঙ্গাপুরে পালিয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে তার মামলার রায়ের দিন পিছিয়ে দিয়ে উচ্চ আদালত এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। রায়ে তার কারাদণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ শুক্রবার তার মামলার রায়ের দিন ধার্য করা ছিল। তিনি অনুপস্থিত থাকায় রায়ের দিন পুনঃনির্ধারণ করা হয়।
এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্ত্বরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু তারপরও ইংলাকের হাজার হাজার সমর্থক তাকে এক নজর দেখার জন্য সেখানে জড়ো হলেও থাইল্যান্ডের প্রথম এ নারী প্রধানমন্ত্রী আদালতে হাজির হননি।
এ মামলার প্রধান বিচারক চীপ চুলামন আদালতকে বলেন, ‘ইংলাকের আইনজীবীরা জানান তিনি অসুস্থ। তারা এ রায় বিলম্ব করার আবেদন জানিয়েছেন। তবে আদালত বিশ্বাস করে না যে তিনি অসুস্থ। তাই তিনি দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারেন এমন আশংকায় আদালত ইংলাকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর এ মামলার রায়ের দিন পুন:নির্ধারণ করেছে।’
ইংলাক সিনাওয়াত্রা ‘অসুস্থ’ নন এবং তিনি বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন বলে সুপ্রিমকোর্টের এক বিচারপতি সন্দেহ জানানোর পর তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। ইংলাক কোথায় আছেন তা জানেন না বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী।
থাইল্যান্ডের উপ প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত ওংসুওয়ানও বলেছেন, সম্ভবত ইংলাক পালিয়ে গেছেন। তবে থাইল্যান্ডের অভিবাসন পুলিশের প্রধান নানথাথর্ন প্রোসুনতোর্ন দাবি করেছেন, ইংলাক এখনও দেশেই আছেন, তার পালিয়ে যাওয়ার কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ইংলাক সরকারের পতন ঘটে। চালে ভর্তুকি কর্মসূচি বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় ইংলাক অভিযুক্ত হলে তার ১০ বছরের সাজা হতে পারে এবং তিনি আজীবনের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ হতে পারেন।
দীর্ঘ-বিলম্বিত এই রায়কে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক-বিভক্ত এই দেশটিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। চালে ভর্তুকির কর্মসূচিটি ছিল ইংলাক প্রশাসনের প্রধান একটি নীতি। ওই কর্মসূচিতে কৃষকদের কাছ থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি মূল্যে ধান কেনা হয়। এই কর্মসূচিটি কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। এই কর্মসূচির কারণে দেশটিতে চালের বিশাল মজুত সৃষ্টি হয় এবং লোকসান হয় ৮০০ কোটি ডলার। ইংলাক ওই কর্মসূচিতে কর্তব্যের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০১৪ সালের ২২ মে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার মাত্র কয়েক দিন আগে আদালতের এক আদেশে ক্ষমতাচ্যুত হন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। ২০১১ সালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। ইংলাক স্বেচ্ছা-নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন। ২০০৬ সালে এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন থাকসিন সিনাওয়াত্রা। বড় দুর্নীতির অভিযোগ এড়াতে দেশ ছাড়েন তিনি। সামরিক জান্তা সরকার এখন থাইল্যান্ডের শাসন ক্ষমতায় রয়েছে। অবশেষে ইংলাকও তার ভাইয়ের মতোই বিদেশে পালিয়ে গেলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button