শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জাতিসংঘের এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় জরুরী সারাপ্রদান তহবিল (সের্ফ) গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা প্রদানের জন্য এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ বরাদ্দ করেছে।
শুক্রবার জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়,বাংলাদেশ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় এনজিওগুলোর অংশিদারিত্তে জাতিসংঘ একটি মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি সারাপ্রদান পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, এতে ৫১,০০০ মানুষকে সহায়তার জন্য ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চাওয়া হয়েছে। সের্ফ তহবিল প্রয়োজনের কিছু অংশ মেটাবে, যা জাতিসংঘের তিনটি সংস্থা ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ এবং ইউনিসেফ-কে প্রদান করা হবে এবং এটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি জেলার চাহিদা মেটাতে ব্যাবহার করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, দুর্যোগের মূল কারণগুলি যথাযথভাবে মূল্যায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন, তবে বান্দরবন, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত সকল ব্যক্তির জন্য সুচারু পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য অংশীদারদের জরুরি মানবিক সারাপ্রদান প্রক্রিয়াতে অবদান রাখার জন্য তিনি আমন্ত্রণ জানান।
জানাগেছে, বরাদ্দকৃত অর্থ দেড় হাজার জরুরী অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এবং ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১,৫০০ টি বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। এটি দূষণ-মুক্ত পানি, পয়ঃনিষ্কাসন সুবিধা প্রদান, স্বাস্থ্যবিধি এবং মর্যাদা কিট বিতরণে সহায়তা করবে। আশ্রয়স্হানের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত সমস্যাগুলি প্রতিরোধ এবং জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ প্রজনন স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পরিহারে তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, জুন মাসে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে যে মারাত্মক ভূমিধস ও তীব্র বন্যা হয় এতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৬৬ জন মানুষের মৃত্যু হয় এবং আরো বহুসংখ্যক আহত হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিধস সম্পর্কিত এই দুর্যোগে কাদা এবং ধ্বংসাবশেষের নিচে হাজার হাজার ঘরবাড়ি চাপা পড়ে যার ফলে পরিবারগুলো অস্থায়ী আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবন জেলাগুলো সবচেয়ে গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সের্ফ তহবিল ছাড়াও দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রদানে এনজিও পরিচালিত সাধারণ তহবিল স্টার্ট নেটওয়ার্কও ইতোমধ্যেই এ্যাকশন এইড এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশকে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য আড়াই লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button