slider

পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান সমস্যা নিরসনে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলন

মো: ইলিয়াছ সানি, বান্দরবান প্রতিনিধি : পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান সমস্যা নিরসনে বান্দরবানে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে।

আজ ১৫ জুলাই শনিবার দুপুরে বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্রাবাস চত্বর মুসাফির পার্ক প্রাঙ্গনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের আয়োজনে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে সাংবাদিক সম্মেলনে আরো অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহাসচীব মোঃ আলমগীর কবির, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোঃ সোলাইমান সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অনেকে।

সম্মেলনে সরকারের কাছে ১৭ দাবি তুলে বলেন, চট্টগ্রামে চলমান রাজনৈতিক সংকট ও সন্ত্রাস বিচ্ছিন্নবাদী রাষ্ট্রদ্রোহী সংগঠন জেএসএস, ইউপিডিএফ, ইউপিডিএফ (সংস্কার) ও কেএনএফ নিজ দেশের ভিতর পরিচালিত রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কর্মকাণ্ড, সেনাবাহিনীর সহ সামরিক ও ও জনসাধারণের উপর প্রকাশ্য ও প্রকাশ্যে আক্রমণ ও হত্যাযজ্ঞ চালানো, লুটপাট, অগ্নি সংযোগ, ধর্ষণ, গরীব অসহায় নাগরিকদের নিজ ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করে তারা সেনা সদস্যদের হত্যা অপহরণ ইত্যাদি অব্যাহত রেখেছে। ফলে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। তাই আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ আপনাদের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের ষড়যন্ত্র ও তৎপরতা দমন এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাদি সম্পর্কে পিসিএনপি’র অবস্থান কর্মসূচি সব সময় অব্যাহত।

সতেরটি দাবি করে জানান,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে একজন সেনা কর্মকর্তা/ বাঙ্গালী চেয়ারম্যান নিয়োগ করে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে বৈষম্যহীন সমতা সৃষ্টি করা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক ধারাসমূহ বাতিল, সংশোধন, সংযোজন বিয়োজন করে বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান সংকট সমূহ সমাধানকল্পে প্রতিপক্ষদের নিয়ে সংলাপ এর আয়োজন করা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিতর্কিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধন ও সংবিধান পরিপন্থী ধারা সমূহ বাতিল ও সংশোধন করা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জেএসএস, ইউপিডিএফ (সংস্কার), কেএনএফ, মগলিবারেশন পার্টি (এমএলপি) সহ সকল সহযোগী সন্ত্রাসী জঙ্গী গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাদের দমনে পাহাড়ে সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখা। সেই সাথে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা, ক্ষমতা ও দুর্গম পাহাড়ী এলাকাতে প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, নতুন নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপন করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে একটি সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করা

জরুরী ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে প্রতি এক কিলোমিটার পর পর বিজিবি’র বিওপি স্থাপন করা।

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলমান ভূমি বিরোধ নিরসনে ডিজিটাল ভূমি জরীপ (সিএস) চালু ও সম্পন্ন করা এবং
জরুরী ভিত্তিতে ভূমিহীনদের মাঝে ভূমি বন্দোবস্তী চালু করা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ কর্তৃক শিক্ষাবৃত্তিতে বাঙ্গালী ও উপজাতিদের সমান অনুপাতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা।

তিন পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারি চাকুরী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে উপজাতি কোটার পরিবর্তে জনসংখ্যার অনুপাতে পার্বত্য কোটা চালু করা।

স্থায়ী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে সার্কেল চীফ সনদ প্রথা (রাজার সনদ) বাতিল করে সমতল জেলা সমূহের ন্যায় ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র অথবা বিশেষ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার সনদ প্রদান করা।

বাজার কাজের জায়গায় আবাসিক ও ব্যবসায়ীক ভবন নির্মাণে ব্যাংক ঋণ চালু করা।

পার্বত্য জেলা সমূহে জেলা জজ আদালতে পারিবারিক আদালত চালু করে নির্যাতিত মহিলাদের সুবিচার নিশ্চিত করা।

পার্বত্য জেলা সমূহে শান্তিবাহিনী কর্তৃক গণহত্যার স্থানসমূহ সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সমূহকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং নিহত ব্যক্তিদের শহীদের মর্যাদার স্বীকৃতি প্রদান করা।

ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স এ বাঙ্গালীদের জন্য উপজাতিদের ন্যায় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও বিভিন্ন আইনে বাঙ্গালীদের অ-উপজাতী আখ্যায়িত করে বাঙ্গালীদের সম্মান ও মর্যাদা হোমোতিপন্ন করা হয়েছে। অবিলম্বে এই আইন সংশোধন করে বাঙ্গালীদেরকে বাঙ্গালী হিসেবে আখ্যায়িত করতে হবে।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় উপজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায় বাঙ্গালী ছাত্রাবাস চালু করতে হবে।

পার্বত্য জেলাসমূহে দেশী-বিদেশী পর্যকটদের আকৃষ্ট করার জন্য পর্যটন স্পটসমূহ সংরক্ষণ, শিল্পের বিকাশ ও সরকারি পৃষ্টপোষকতা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বেকার যুব সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন ফলজ-বাগান, রাবার বাগান, মৎস খামার, গবাদি পশু খামার, বনায়নসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা প্রদান।

আরো বলেন, পাহাড়ে নব সৃষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কে এন এফ স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি পার্বত্য নাগরিক পরিষদ দেশ মাটি ও মানুষের জন্য পার্বত্য অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে সকল নিরিহ মানুষের জন্য। তাই অতিথিরা পরিশেষে পার্বত্য বান্দরবানের এই সকল সমস্যা নিরসনে সকলকে এক সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button