শিক্ষাশিরোনাম

পাঠ্যপুস্তকে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন: টিআইবি

বাংলাদেশে এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হচ্ছে, স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন ও পরিমার্জনের ঘটনায় রাজনৈতিক সরকারগুলোর মতাদর্শের প্রতিফলন ঘটছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক পাঠ্য বইয়ের বিষয়, এমনকি শব্দও পরিবর্তন করা হয়।
এছাড়া পাঠ্যবইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রণয়নের ক্ষেত্রে যে কমিটি করা হয় সেখানে ক্ষমতাশীল দলের মতাদর্শের সমমনা লোকজনকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।
ঢাকার বনানী মডেল হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণির বাংলার ক্লাস মাত্র শেষ হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক কাজী শফিকুল ইসলাম

আমি যখন ওখানে যাই শিক্ষার্থীরা তখন পরবর্তী ক্লাস শুরু না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের মতো করে সময় কাটাচ্ছিলো।
এই স্কুলটির প্রধান শিক্ষক কাজী শফিকুল ইসলাম। তার অফিসে বসে কথা বলছিলাম পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুতে তিনি তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে কি ধরনের পরিবর্তন দেখেছেন?
তিনি বলেন, “সরকার পরিবর্তন হলে দেখা যায় সেগুলো পাল্টে যায়। যে সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তারা তাদের মতো করে বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি। কারণ ছাত্রদের বোঝাতে পারি না পরিস্থিতি।”
দুর্নীতি নিয়ে গবেষণা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। এবিষয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি গবেষণা চালিয়েছে এবং আজ তাদের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
টিআইবি আজ তাদের এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু এবং শব্দের পরিবর্তন করা হয়। এছাড়াও তারা প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক তৈরি, ছাপা, বিতরণের ব্যাপক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পাণ্ডুলিপি তৈরির ক্ষেত্রে যে কমিটি গঠন করা হয় সেখানে বেশির ভাগ সময় ক্ষমতাশীল দলের ভাবধারার লোকদের নিয়োগ দেয়া হয়, যারা হয়তো সেই বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা রাখেন না।
“পাণ্ডুলিপি তৈরির বেলায় কমিটি গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণে বস্তুনিষ্ঠতা হারিয়ে যায়। এবং যেটা হয়ে আসছে যে এই কমিটিতে সরকারের ভাবধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ লোকদের প্রাধান্য দেয়া হয়। এখানে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা খুব কমই থাকেন।”
ঝালকাঠির হরচন্দ্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিরিন শারমিন বলেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সাথে সাথে বার বার বিষয়বস্তুর পরিবর্তন হয়েছে। যেটা তিনি তার শিক্ষা-জীবন এবং শিক্ষকতা-জীবনেও লক্ষ্য করছেন।
শিরিন শারমিন বলেন, “আমার স্পষ্ট মনে আছে এরশাদের শেষ সময় পাঠ্যপুস্তকে জিয়াউর রহমান আছেন, মোশতাককে দেখলাম, এরশাদকে দেখলাম। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সালের কোন তথ্য নেই। পরে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ভ্যানিশ হয়ে গেল।”
শিক্ষিকা শিরিন শারমিন

টিআইবি বলছে, পাঠ্যবই ছাপা এবং বিতরণের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বা এনসিটিবির কর্মকর্তাদের একাংশ ‘দরপত্র অনিয়মের’ সাথে জড়িত।
সংস্থাটি বলছে, যার ফলে অযোগ্যরা যখন কাজ পাচ্ছে স্বাভাবিকভাবে বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা বই পাচ্ছে না।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহার সাথে টিআইবির প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনটি তারা খতিয়ে দেখে তারপর মন্তব্য করবেন। সুত্র: বিবিসি বাংলা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button