slider

পাঁচবিবিতে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে সাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা

রেজাউল করিম রেজা, জয়পুরহাটঃ জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন নাজমা বেগম ও পারুল বেগম নামের সহ প্রায় ৫০ টি পরিবারের নারী। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের বাড়ীতে সার তৈরীর কার্যক্রম শুরু করেন তারা। এতে নিজের ফসলি জমিতে ব্যবহারের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে এখন প্রতিমাসে আয় করছেন প্রায় ৫/১০ হাজার টাকা। দুই নারীর দেখাদেখী এখন অনেকে কেঁচো কম্পোস্ট স্যার তৈরীতে আগ্রহী হচ্ছেন।
পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের নওদা গ্রামের গৃহিনী নাজমা বেগম ও পারুল বেগম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০২১ সালে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল প্রোগ্রাম ফেজ প্রজেক্ট এ (এনেটিপি-২) এবং অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) তৈরীতে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাদের দেখাদেখি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে এমনি ছোট বড় মাঝারি প্রায় ৫০ টি পরিবারের নারীরা হাউজ, চাড়ায় কেঁচো কম্পোস্ট স্যার তৈরী করছেন এবং ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন তারা।
পরে কৃষি অফিসের তৈরীকৃত হাউজিং পদ্ধতিতে ৫টি হাউজে নিজের গৃহ পালিত গরুর গোবর হাউজে সংরক্ষণ করে সেখানে ১ কেজি কেঁচো ছেড়ে দেন। এর ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিটি হাউজ থেকে ৫০ থেকে ৬০ কেজি কেঁচো (ভার্মি কম্পোস্ট) পান এবং ৫টি হাউজ থেকে ২৬০ থেকে ২৮০ কেজি সার পাওয়া যায়। সেই সার থেকে প্রতিমাসে আয় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। শুধু তাই নয় হাউজে ছেড়ে দেওয়া কেঁচোও দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেখান থেকে কেঁচোও বিক্রি করে আয় করছেন তারা।
এ বিষয়ে নাজমা বেগম বলেন, এ সার তৈরিতে আমার খুব বেশি সময় দিতে হয় না। পারিবারিক কাজের পাশাপাশি এ সার তৈরি করে আসছি। কোন সমস্যা হলে কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, কেঁচো সার তৈরী করে নিজের ফসলের ক্ষেতে দেয়। পাশাপাশি কেঁচো সার বিক্রি করে নিজের সংসার ও ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ জোগান দিচ্ছি।
একই গ্রামের পারুল বেগম বলেন, সরকারের সহযোগীতায় কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথমে নিজের ফসলের জমিতে দেওয়ার জন্য কেঁচো সার তৈরী করি। সবজির ক্ষেতে কেঁচো সার দেওয়ায় সবজির ফলন খুব ভাল হয়। পরে আরো হাউজ বৃদ্ধি করে কেঁচো সার তৈরী করি। এখন নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে মাসে ৬/৭ হাজার পর্যন্ত লাভবান হচ্ছি। এই কেঁচো সারের চাহিদা খুব বেশি।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফর রহমান বলেন, উপজেলায় জৈব পদ্ধতিতে ফসলের চাষাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় ভার্মি কম্পোষ্ট উদ্যোক্তা তৈরী করেছি, যা অল্প কিছুদিনের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। তারা রাসায়ানিক সারের পাশাপাশি জৈব সার উৎপাদন করে নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে অনেক লাভবান হচ্ছে। এ পর্য়ন্ত প্রায় ১০০ জন নারীকে প্রশিক্ষন দিয়েছি। পাচবিবিতে বড় হাউজে ১০ সহ মোট ৫০ টি ছোট ও মাঝারি ৪০ টি হাউজে কেঁচো সার উৎপাদন করে মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করছে এখানকার নারীরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button