পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে পদক্ষেপ চেয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
যুক্তরাজ্যে স্কুল শিক্ষার্থীরা মনে করছে বৈশ্বিক জলবাযু পরিবর্তনে পরিবেশগত বিপর্যয়ের মারাত্মক ঝুঁকি দিনদিন বেড়ে গেলেও দেশটির রাজনীতিকরা এবিষয়ে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ জানাতে শুক্রবার রাজপথে নেমে আসে।
স্কুল শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ আয়োজনকারীদের অন্যতম সংগঠক জাতিসংঘের সাবেক জলবায়ু বিষয়ক প্রধান মিস ক্রিস্টিনা ফিগার্স (UN climate chief, Christiana Figueres) বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় তরুণ কণ্ঠস্বরকে গভীরভাবে জাগিয়ে তোলার এখনই মোক্ষম সময়। তিনি বলেন, আসল সত্য হচ্ছে-পরিবেশগত বিপর্যয়ের বিষয়ে শিশুরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই ভীতসন্ত্রস্ত। শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও এবিষয়ে উপলব্ধি করা উচিত এবং তাদের বিক্ষোভে যোগদান করা বাঞ্চনীয়।
২০১৫ সালে প্যারিসে ঐতিহাসিক জলবায়ু চুক্তির নেতৃত্ব দেন মিস ক্রিস্টিনা।তিনি বলেন, মূলত ক্রমাগতভাবেই জলবায়ু সংকট বাড়ছে। একটা বাজেয়াবস্থার প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছে গেলেও আমরা কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে শিশুদের রক্ষাকরা। আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পিছিয়ে আছি।
কয়েক বছর আগে বায়ুমণ্ডলে কার্বনের ঘনত্ব ছিল ৩৫৬ পিপিএম (parts per million- ppm)। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩৯৮ পিপিএম। বিজ্ঞানীরা বলছেন- ৪৫০ পিপিএম হলেই অপ্রত্যাশিতভাবে শুরু হবে বন্যা, খরা, মরুর লু হাওয়াসহ পৃথিবীর পরিবর্তন। যেখানে কোনো মানুষের বসবাস যোগ্যতা থাকবে না। ফলত পৃথিবী হবে বসবাসের অযোগ্য। যার লক্ষণ হিসাবে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত পরিবর্তন ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই সংকট মোকাবেলায় টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবি জানাতে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট, পার্লামেন্ট স্কয়ারসহ দেশজুড়ে অন্তত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
মূলত গত আগস্ট মাসে এই বিক্ষোভ শুরু হয় সুইডিশ পার্লামেন্ট চত্বর থেকে। এ সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও এখন সুইডেনে প্রতি সপ্তাহে ৭০ হাজারেরও বেশি শিশু বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে। বর্তমানে লন্ডনসহ বিশ্বের ২৭০টি শহরে এই বিক্ষোভ চলছে।
যুক্তরাজ্যে প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলে দুপুরে খাবারের ছুটির সময়ে এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন হাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জড়ো হয় এবং নানা স্লোগান দিতে থাকে। পার্লামেন্টের বাইরে সড়কে বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিতে সোনা যায়- ’ ইঞ্জিন বন্ধ করো’, ‘আমরা এখনই পরিবর্তন চাই’।
এ সময়ে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিক্ষোভের সুযোগ করে দেয়।শিশুদের বিক্ষোভ চলাকালে পথচারীরাও তাদের সমর্থন জানায়।তবে পুলিশ আর পথচারীরা নীরব দর্শকের মতো তাকিয়ে থেকে শিশু বিক্ষোভকে উপভোগ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন- ‘আমরা তোমাদের গর্বিত মাতা-পিতা।’
এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হাউজ অব কমন্সের একাধিক সদস্য তাদের ফেসবুকে লিখেছেন-‘তোমরা একটুখানি তোমাদের ক্লাসের সময় অপচয়ে করলেও তোমাদেরকে স্বাগত। আমরা ৩০ বছর অপচয় করেছি। তোমরা আমাদেরকে বিবেককে জাগিয়ে দিয়েছো। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।’




