
ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহতভাবে বেড়েই চলেছে। বন্যার পানিতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার ৩০টি গ্রাম ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি আউশ ধান ও পাটসহ প্রায় ১৮শ’ হেক্টর জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বন্যা কবলিত এলাকায় নদী ভাঙ্গন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমূল হক জানিয়েছেন, শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত পানি বিপদসীমা থেকে দশমিক নয় সেন্টিমিটার কম রয়েছে। প্রতি ৩ ঘণ্টা পরপর পানির মাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পদ্মার সাথে সাথে এর প্রধান শাখা গড়াই নদীতেও পানি বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ। তারা জানান, ইতোমধ্যেই বসতবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। এখন বাড়ি ফেলে রেখে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
এছাড়া এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। তারা বলেন, সরকারিভাবে এখনও কোনো ত্রাণ আসেনি। আমাদের আয়-রোজগারও বন্ধ। এই অবস্থায় না খেয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
উল্লেখ্য, ফারাক্কা বাঁধের প্রায় সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে পানিপ্রবাহ দ্রুত বাড়ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, পদ্মা নদীর পানি প্রতি তিন ঘণ্টায় ২ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে। এইভাবে চলতে থাকলে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে খুব বেশি সময় নেবে না।
পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে নদীটির প্রধান শাখা গড়াই নদেও পানির প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বন্যার আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। ইতোমধ্যেই পদ্মা নদী ও গড়াই নদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বাঁধগুলোতে নজর রাখা শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এর আগে ফারাক্কা বাঁধের ১০৪টি গেটের মধ্যে ৯৫টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বলা হয়েছে, বিহার রাজ্যের বন্যার পানি কমার কোনো অগ্রগতি দেখা না গেলে বাঁধের আরো গেট খুলে দেয়া হতে পারে।
ফারাক্কা বাঁধের এই গেটগুলো খুলে দেয়ার ফলে প্রায় ১১ লাখ কিউসেক পানি সরে গিয়ে বিহার প্রদেশের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। রাজ্যটিতে প্রায় ১০ লাখ লোক পানিবন্দী অবস্থায় আছে।
তবে এই ১১ লাখ কিউসেক পানি বাংলাদেশের ভেতরে এসে বাংলাদেশ অংশে পদ্মায় পানি প্রবাহ বাড়ালেও তা বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র এবং যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারা। ফারাক্কা বাঁধের ১০৪টি গেটের ১০০টি খুলে দেয়া হলেও বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির খুব একটা অবনতি ঘটবে না বলেই জানান এই কর্মকর্তারা।




