শিরোনাম

পদ্মার করাল গ্রাসে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে আবারো পদ্মার তাণ্ডব শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে পদ্মার প্রায় ২০ সেঃ মিঃ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে শুরু হয়েছে নদীর পাড় ভাঙ্গন। এতে করে বিলীন হচ্ছে বিস্তৃণ ফসলের মাঠ। ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটসহ শত শত বাড়ি-ঘর।
ইতোমধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের দুই পাশে ঢল্লাপাড়া, ছাত্তার মেম্বর পাড়া ১নং বেপারী পাড়া, জলিল মন্ডলের পাড়া এবং দেবোগ্রাম ইউনিয়নের কাওলজানি এলাকার নদীর পাড় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ছাত্তার মেম্বর পাড়ার প্রায় তিন শ’ পরিবার ভাঙ্গনের আশঙ্কা করছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের লঞ্চঘাট ও ফেরিঘাটসহ এর সংলগ্ন প্রায় তিন শতাধিক বসতবাড়ি, একটি মসজিদসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকাগুলোর প্রায় তিন শ’ বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদীর তীরবর্তী থেকে প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার অন্তার মোড় থেকে কাওলজানি এলাকা নদীর পাড় পর্যন্ত সড়ক ও এর দুই পাশের শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। রাজবাড়ী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ করে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গা সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করছে। কিন্তু সড়কের দুই পাশের ফসলি জমি রক্ষার কোন উদ্দ্যোগ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারের কোনো কর্মকর্তাকে এ সময় সেখানে পাওয়া যায়নি।

এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আরিফ সরকার এবং ওই কাজের ঠিকাদার ফারুখ হোসেন মুঠোফোনে জানান, কাওলজানী এলাকায় সড়কের দুই পাশে সাত শ’ মিটার নদীর পাড়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয় শ’ জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
জানা যায়, স্থানীয় এমপি কাজী কেরামত আলীর দুই ভাই টিটো কাজী ও ফারুখ হোসেনের মালিকানায় দিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই কাজ বাস্তবায়ন করছে।
এ সময় ভাঙ্গনের শিকার মিনাজ ফকির সহ কয়েকজন জমির মালিক আক্ষেপ করে বলেন, শুধু ভাঙ্গা সড়ক রক্ষার জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে। অথচ পাশেই শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, তা রক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নাই।
ওদিকে দৌলতদিয়া ৬নং ফেরি ঘাটের কয়েক শ’ মিটার ভাটিতে ছাত্তার মেম্বর পাড়ায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। ওই এলাকার প্রায় তিন শ’ পরিবার ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।
ভাঙ্গন ঝুঁকিতে থাকা মোঃ আতর আলী খান, তারা মন্ডল, জাফর আলী সরদার, মাজেদা বেগম জানান, প্রতি বছরই পদ্মার ভাঙ্গনে ওই এলাকার মানুষ বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। গত বছরও প্রায় ২৫০টি পরিবার সরে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। এবার আবার ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অথচ এই এলাকায় কোনো জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে না।
এ সময় তারা আক্ষেপ করে বলেন, বর্ষা মৌসুম এলে মন্ত্রী, এমপি বড় বড় অফিসার, নেতা সবাই এসে আমাদের জন্য খুব দরদ দেখায়। নদী শাসন করবে, বাঁধ দিবে, নদী আর ভাঙ্গবে না। আমাদের আর সরতে হবে না। ভা্গেন রক্ষার নামে লাখ লাখ টাকা তারা কামিয়ে নেয়। ভাঙ্গন শেষ তাদের আসা যাওয়াও শেষ। সারা বছর তাদের দেখা যায় না। সুত্র : নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button