sliderবিনোদনশিরোনাম

নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরে নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমদের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ জুলাই) দিবসটি উপলক্ষে কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে গাজীপুরের সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামের নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা, ভালবাসার ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।

জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। তার ডাক নাম কাজল। তার বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোটো ভাই। সবার ছোটো ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

হুমায়ূন আহমদকে স্মরণ করতে গিয়ে তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুমতি ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের নাটক ও সিনেমা প্রদর্শন বন্ধের দাবি জানান।

কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ লেখকের দুই ছেলে নিশাত ও নিনিতকে নিয়ে তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে গাজীপুরে হুমায়ূন আহমেদের গড়া নূহাশ পল্লীতে যান।

এদিকে হুমায়ূন আহমদের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকে হুমায়ূন ভক্ত এবং হিমু পরিবহনের সদস্যরা নূহাশ পল্লীতে ভিড় জমাতে থাকেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা নূহাশ পল্লীর লিচু তলায় হুমায়ূন আহমদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কবর জিয়ারত করেন। এ সময় লেখকের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

গাজীপুর সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যন অ্যাডভোকেট রীনা পারভীন এবং নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ হুমায়ূন আহমদের শুনুধ্যায়ী ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

কবর জিয়ারত শেষ মেহের আফরোজ শাওন গণমাধ্যমকে বলেন, আমার দুই ছোট সন্তান তাদের বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে এই ব্যাপারটি আমাকে ভীষণ কষ্টতাড়িত করে। এ সময় তিনি হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, হুমায়ূন আহমদ চলে গেছেন ১১ বছর। এখনো হুমায়ূন আহমেদের নাটক যদি ইউটিউব বা চ্যানেলে চলে আমরা শেষ না করে উঠতে পারি না। হুয়ায়ুন আহমেদ কতো বড়মাপের একজন লেখক, পরিচালক ও গীতিকার ছিলেন, কতো বড়মাপের সৃষ্টিশীল সত্তা ছিলেন তার শূণ্যতা তার অনুপস্থিতে এখন অনুধাবন করা যায়। তবে খুবই দুঃখজনক হলেও সত্য হুমায়ূন আহমদের বহু নাটক, ধারাবাহিক নাটক, এক পর্বের নাটক ও সিনেমা বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউব চ্যানেলে কোনো রকম চুক্তিপত্র ছাড়াই অনৈতিকভাবে তার সৃষ্টিকর্ম প্রদর্শন করা হচ্ছে। হুমায়ূন আহমদ বেঁচে থাকতেও এ সবের জন্য তারা অনুমতি নেয়নি, মৃত্যুর পরও তার উত্তরাধিকার কারোর সাথে চুক্তি বা মৌখিক অনুমতিও নেয়নি। দেশের প্রথম সারিসহ ওটিটি চ্যানেলগুলোতেও হুমাইয়ূন আহমেদের সৃষ্টি নাটকগুলোও চালানো হচ্ছে কোনো প্রকার চুক্তি বা যোগাযোগ ছাড়া।
আমি এসব চ্যানেলগুলোর নাম বলতে চাই না তারা লজ্জা পাবেন বলে। এটা হতে পারে না। এ ব্যাপারে আমি অভিযোগ করেছি, কিন্তু অভিযোগের কোনো জবাব আমি এখনও পাইনি। আমি আইনগতভাবে অভিযোগ করিনি, তবে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছিলাম। দেশের প্রথম সারির ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি। তাদের একজনকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি। এখনো পর্যন্ত ওনাদের দিক থেকে কোনো মুভমেন্ট বা নড়াচড়া আমি দেখতে পাইনি।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এ সময় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনুমতি ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের নাটক ও সিনেমা প্রদর্শন বন্ধের দাবি জানান।

নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, লেখক হুমায়ূন আহমদের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গাজীপুরের নূহাশ পল্লীতে সকাল থেকে কোরানখানির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া স্যারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বিভিন্ন মাদরাসার আড়াই শতাধিক এতিম ছাত্রদের নিয়ে এ কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়ার অনুষ্ঠান হয়। পরে এতিমদের প্লেটে হুমায়ূন আহমেদের পছন্দের খাবার তুলে দেন শাওন ও তার দুই ছেলে। দুপুরে সাদা ভাত, গরু ও মুরগীর গোশত, সব্জি, ডাল এবং মিষ্টি খেতে দেয়া হয়। এছাড়া মাদরাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ উপস্থিত হুমায়ূন ভক্তদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সন্ধ্যা পর্যন্ত নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন ভক্তদের আগমন অব্যহত ছিল।

২০১১ সালে হুমায়ূন আহমেদের অন্ত্রে ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরের বছরের মাঝামাঝি সময় তার অন্ত্রে অস্ত্রপচার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ইন্ফেকশন হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমেরিকায় নিউইর্য়কের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর হুমায়ূন আহমেদকে তার নিজের প্রতিষ্ঠিত গাজীপুরের নুহাশ পল্লীর লিচু তলায় দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, জনপ্রিয় এই উপন্যাসিকের বিচরণ ছিল নাটক-চলচ্চিত্রেও। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনারা তাকে হত্যার জন্য গুলি ছুঁড়লেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। হুমায়ূন আহমেদ শুধু সাহিত্য রচনা করেননি। তিনি নাটক ও সিনেমায় সাহিত্য রূপ দিয়েছিলেন। তার প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল।

তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরীপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, দারুচিনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button