নিয়ামতপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাঁসি

জনি আহমেদ,নিয়ামতপুর (নওগাঁ)প্রতিনিধি : দিগন্ত জুড়ে ফসলের মাঠ। কৃষকের স্বপ্নের ধান, ধারণ করেছে সোনালী রঙ। পাকা ধানের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে। নওগাঁর নিয়ামতপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা এখন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। গত কয়েক বছরেও এরকম ভালো ফলন পায়নি কৃষকরা। নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উপজেলায় ২২ হাজার ৬শ ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষবাদ হয়েছে। উৎপাদ লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৬ মেট্রিকটন। কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নতমানের ধানের বীজ, সার দেওয়া হয়েছে। উপজেলার কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরের চেয়ে এবার শ্রমিকের মূল্য বেশি। শ্রমিকের মূল্য বেশি থাকলেও দশ বছরের চেয়ে এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলনে খুশি তারা। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ধানের উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। কিন্তু বাজারে গত বছরের তুলনায় এবার মণ প্রতি দেড় থেকে দুই শত টাকা কম দরে বিক্রি হচ্ছে ধান। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কৃষক এনামুল, হাফিজ, মনসুর আলী মন্ডল ও সাদ্দাম হোসেনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, এ বছর শিলা বৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়া ও অতি খরার কারণে বোরো ধান খেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাই কম হয়েছে। ফলে ১ বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে প্রকারভেদে ২২ থেকে ২৮ মণ ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন কৃষকরা। তারা আরোও বলেন, এবার আমাদের ভাগ্য পাল্টে গেছে। গত কয়েক বছরেও এমন ধান ঘরে তুলতে পারিনি আমরা। তবে এবার শ্রমিকের মূল্য একটু বেশি। গত বছরের মতো এবার বাজারে ধানের দাম নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, বোরো মৌসুমে কালবৈশাখী এবং শিলা বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। ৬৭৬৫ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত মানের ধানের বীজ ও সার এবং কৃষি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরোও বলেন, উপজেলায় পুরোদমে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। মে মাসের ২০ তারিখের মধ্যে পুরোপুরি ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হবে। হেক্টর প্রতি সম্ভাব্য গড় ফলন ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ধানে।




