নিয়ামতপুরে জীবিকার তাগিদে ঘোড়া দিয়ে অন্যের জমিতে মইচাষে ব্যস্ত

জনি আহমেদ,নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর নিয়ামতপুরে গরু-মহিষ দিয়ে জমি চাষের দৃশ্য স্বাভাবিক। কিন্তু গরু-মহিষের জায়গায় যদি জুড়ে দেওয়া হয় ঘোড়া, তবে তা ব্যতিক্রমীই বটে। অবশ্য এখন সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চাষাবাদেও এসেছে পরিবর্তন। এখন পশু দিয়ে জমি চাষ না করে যান্ত্রিক নানা প্রযুক্তির সাহায্যে জমি চাষ করে থাকেন কৃষকরা। নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শাবিলপুর গ্রামে দেখা মিলল ভিন্ন চিত্রের। শরিফুল ইসলাম নামে এক কৃষক ঘোড়া দিয়ে অন্যের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। যায় জানা গেছে, উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের শাবিলপুর শরিফুল ইসলাম ।এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় অভাবে সংসারে আয়ের একমাত্র উৎস ঘোড়া দিয়ে হালচাষ মইচাস শুরু করেন। নিজের কোনো জমি না থাকায় পরের জমি বর্গাচাষের পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে অন্যের জমি চাষ করেন। তার ঘরে স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘোড়াকে আমি বেশ ভালোবাসতাম। প্রথমে শখ করে একটি ঘোড়া কিনি, পরে চিন্তা করলাম ঘোড়া দিয়ে যদি গাড়ি চালানো যায়, তবে জমিতে হালচাষ ও মই দেওয়া যাবে। এখন বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।
তিনি আরোও বলেন, প্রতিদিন ৬ থেকে সাড়ে ৮ বিঘা জমিতে মই দেওয়া হয়। এতে আমার প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হয়। জমিতে মই দিয়ে প্রতিদিন যা পাই তা দিয়ে সংসার ভালোই চলে। এলাকায় অনেক কৃষক এখন পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষাবাদ করে, ঘোড়া দিয়ে মই দেওয়া হয়।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, এলাকায় তো এখন আগের মতো আর গরুর হাল নেই। তাই কম খরচে শরিফুল ইসলামের ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই দিয়ে থাকি। প্রথমে অবাক হয়েছি খুব অল্প সময়ে এক বিঘা জমিতে ঘোড়া দিয়ে মই দেওয়া সম্ভব। গরু বা মহিষ দিয়ে যেটা অসম্ভব।
তারা আরোও বলেন,বলেন, শরিফুল খুবই গরিব মানুষ। টাকার অভাবে বড় ঘোড়া কিনতে পারছে না। সরকার বা অন্য কেউ তাকে ঘোড়া কিনতে সহযোগিতা করলে তার জন্য ভালো হবে। সে আরও বেশি জমিতে চাষবাদ ও মই দিতে পারবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার আমীর আব্দুল্লাহ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এখন যান্ত্রিক উপায়েই জমি চাষ করেন কৃষকরা। ঘোড়া প্রকৃতিগতভাবে পরিশ্রমী প্রাণী। তবে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করা হলে কৃষিতে ভালো অবদান রাখতে পারবে ঘোড়া।



