নিষিদ্ধ রপ্তানি থেকেই উত্তর কোরিয়ার আয় ২০ কোটি ডলার: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে নিষিদ্ধ পণ্য রপ্তানি বাণিজ্য থেকে উত্তর কোরিয়া গত বছর প্রায় ২০ কোটি ডলার আয় করেছে বলে এক পন প্রতিবেদনে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
তাছাড়া, সিরিয়া ও মিয়ানমারের কাছে পিয়ংইয়ংয়ের অস্ত্র বিক্রির অভিযোগও করা হয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা কমিটির এ প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, এ সামরিক সহযোগিতার প্রমাণ আছে।
চীন, রাশিয়া এবং মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ এ অবৈধ রপ্তানি বন্ধে ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ প্যানেল।
পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জেরে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যকার প্রস্তাবনায় নিষিদ্ধ প্রায় সব ধরনের পণ্যই উত্তর কোরিয়া রপ্তানি করে গেছে।”
উত্তর কোরিয়ায় অবৈধভাবে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের অভিযোগে কয়েকটি বহুজাতিক তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া এবং ভিয়েতনামের বন্দরে কয়লার চালান গেছে উত্তর কোরিয়া থেকে। নানারকম ধোঁকাবাজির মধ্য দিয়ে একাজ করা হয়েছে।
তবে উত্তর কোরিয়ার চীনা দূতাবাস জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা দুই দেশের মধ্যে ‘স্বাভাবিক বাণিজ্যিক লেনদেন’ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে। চীন এখনো খাবার, ফল এবং গৃহস্থালি জিনিসপত্র উত্তর কোরিয়ার বিক্রি করছে বলে এতে জানানো হয়েছে।
ওদিকে, জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞার কালো তালিকায় থাকার পরও উত্তর কোরিয়ার প্রধান অস্ত্র রপ্তানিকারক কোমিড করপোরেশনের সঙ্গে মিয়নমার এবং সিরিয়া সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে বলে জানতে পেরেছেন জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকরা।
উত্তর কোরিয়া সিরিয়াকে রাসায়নিক অস্ত্র বানাতে সহায়তা করছে এবং মিয়ানমারকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে- এমন প্রমাণ আছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেল।
তারা বলছেন, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়া থেকে ৪০টিরও বেশি জাহাজে পণ্য পাঠানো হয়েছে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে।
ওদিকে, জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তাদের দেশ অস্ত্র লেনদেনে জড়িত নয়।



