রাজনীতি

‘নির্বাচন কমিশন-কাদের সাহেবরা একই কাননের ফুল’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও ওবায়দুল কাদের সাহেবরা একই কাননের ফুল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। রোববার (২৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা তথ্য প্রমাণের সরকারি কমকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম, কিন্তু আওয়ামী নেতারা তাদের মেধাবী অফিসার বলে ডিফেন্স করছে। কমিশন সচিবও তাদের পক্ষ নিয়ে সাফাই গাইছে, অথাৎ তারা যদি একই কাননের ফুল না হতো তাহলে সাফাই গাইতো না। ইসি সচিবকে দলবাজ বলেও আখ্যায়িত করেন রিজভী।
তিনি বলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী পুলিশের কো-অর্ডিনেশনের মধ্যে থাকবে, যা নজীরবিহীন ও দুরভিসন্ধিমূলক। সিইসি বলেছেন যে, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামবে। সেনাবাহিনী একটি সুপিরিয়র বাহিনী হিসেবে পুলিশের কমান্ডে কী করে কাজ করবে? সেনাবাহিনীকে আর কতো ছোট করা হবে?
সাবেক ছাত্রনেতা বলেন, সাধারণত: সেনাবাহিনী যেখানে ডেপ্লয়মেন্ট হয় সেখানে রাষ্ট্রের অন্যান্য বাহিনীগুলো (বিজিবি, পুলিশ, আনসার ইত্যাদি) সেনাবাহিনীর কমান্ডেই কাজ করে। এটাই বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন নিয়ম। যে সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে গর্বিত বাহিনী হিসেবে সকলের নিকট সমাদৃত হয়েছে, সেই বাহিনীকে আর কত নীচু করা হবে? যে সেনাবাহিনী আমাদের জাতীয় দুর্যোগ-দুর্বিপাক মোকাবেলায় মানুষের জীবন ও সম্পদ বাঁচাতে উপদ্রুত এলাকায় দ্রুতগতিতে ছুটে যায়, সেই বাহিনীকে আর কত হেয় করা হবে?
তিনি বলেন,একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ না করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। গতকাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে ব্রিফিংয়ে সিইসি এ নির্দেশনা দেন। সিইসি বলেছেন, নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে আপনারা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করবেন। কিন্তু প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করবেন না। এ সময় তিনি আরও বলেন, পুলিশ ইসির নির্দেশে কাজ করছে, ইসির নির্দেশ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আইনত শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রিত ভোটারবিহীন নির্বাচনেরই আলামত ফুটে উঠছে।
রিজভী বলেন, সিইসি বলেছেন- পুলিশ ইসির নিদের্শ মতোই কাজ করছে, সুতরাং সিইসি স্বীকার করে নিলেন যে, সারাদেশে যত হামলা, মামলা, গায়েবি মামলা, গ্রেফতারসহ সবকিছু হচ্ছে সিইসির নির্দেশে। সে ক্ষেত্রে যশোরের বিএনপি নেতা ও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু বকর আবু’র লাশ বুড়িগঙ্গায় ভেসে ওঠাটা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার বক্তব্যে পরিস্কার হলো তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন চান না, যে করেই হোক আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসাতে হবে- এটাই কমিশনের মনোবাসনা।
তিনি আরও বলেন, একতরফা নির্বাচন করতে, দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই তিনি সিইসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করার জন্য নয়। সিইসির বক্তব্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেপরোয়া করে তুলবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরা ভোট কেন্দ্রের ভেতরে যেতে পারবেন না, সাংবাদিকরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন না, পর্যবেক্ষকদের মুর্তির মতো দাঁড়িয়ে থেকে ভোট পর্যবেক্ষণ করতে হবে, তাহলে কি শুধুমাত্র আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী আর আওয়ামী চেতনায় সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলে নির্বাচন করবে? ভোট ডাকাতির সুযোগ করে দিতেই যাবতীয় আয়োজন করা হচ্ছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে যে পরিবেশ বিরাজমান এ পরিস্থিতিতে কোন ভোটার ভোট কেন্দ্রে যাবে না। সুতরাং সিইসির বক্তব্যে পরিষ্কার হলো যে, অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় তিনি নিজেই।
রিজভী আরও বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমান ডিজি শামীম মোঃ আফজাল দীর্ঘ ১০ (দশ) বছর অত্র প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। প্রশাসনিক কাজে অমনোযোগী হলেও দলীয়করণ ও দুর্নীতিতে সর্বশ্রেষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলেন এই মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ উপলক্ষে দেশে ওয়াজ মাহফিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের অধিনস্ত ‘মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে’ লক্ষাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কেয়ারটেকার কর্মরত রয়েছে। অন্যান্য প্রকল্প ও রাজস্ব খাতসহ প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার জনশক্তিকে দলীয়করণের কাজে ব্যবহার হতে বাধ্য করছেন এই ডিজি। ৪৫ দিনব্যাপী ৬৪ জেলায় নির্বাচনী প্রচারণার কাজ বাস্তবায়নের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও দাওয়াতি মাহফিলের নাম করে প্রতি উপজেলায় জনসভার আয়োজন করে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে প্রায় দুই কোটি সরকারি টাকার তছরুপ হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের আদেশের তোয়াক্কা না করে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।
পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button