
পতাকা ডেস্ক: ফেনী-২ আসনে নিজের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে মজিবুর রহমান মঞ্জু নির্বাচনে একটা দল থেকে ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ এনে বলেন,“ফেনীতে ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে অনেকে নানা ধরনের ভয়-ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। গতকাল ছাগলনাইয়ার শুভপুরের দারগারহাটে হামলা করা হয়েছে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের উপর। সেখানে ৮ জন আহত হয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে শুনতে পাচ্ছি যে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমার খুব আপসোস লাগে, শেখ হাসিনার চাইতে বড় ভয়ভীতি কি দেখানোর সামর্থ্য আর কারো আছে? শেখ হাসিনার ভয়ভীতিকে তোয়াক্কা করে নাই আমাদের তরুণ সমাজ। আপনাদের সে দৃশ্যের কথা মনে আছে, যখন একজন পুলিশের কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে বলছিল স্যার একটা গুলি করি তো একটা মরে,একটা মরে যায় আরেকজন তো দাঁড়িয়ে যায়, এরা তো যায় না। যারা আজকে ফেনীর নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন, যারা আজ ফ্যাসি শক্তির হুঙ্কার দিচ্ছেন আপনাদের মনে থাকার কথা,মনে রাখার কথা, এ প্রজন্ম তরুণ প্রজন্ম, যারা আপনাদের হুঙ্কারকে ভয় করবে না। বরং একটা মরলে আরো দশটা দাঁড়িয়ে আপনাদের সে প্রতাপ এবং হুঙ্কারের জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ”
তিনি বলেন, ফেনীর প্রশাসনকে বলবো,গতকাল যে ঘটনাটা ঘটেছে আপনারা সে ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করেন নাই। এখনো কোন পদক্ষেপ নেন নাই। অথচ সেদিন প্রতীক বরাদ্দের অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার বলেছিলেন যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। আপনারা দেখবেন ফেনী শহরের বিভিন্ন জায়গায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বড় বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সে ব্যাপারেও প্রশাসনকে আমরা কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখেনি। সুতরাং নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার জন্য প্রশাসনের যে বক্তব্য সে বক্তব্য নিয়ে আমাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
কার্যালয় উদ্বোধন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। মুনাজাত পরিচালনা করেন জেলা আমীর মুফতি আব্দুল হান্নান।
অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে আমরা যেহেতু দশ দলীয় জোট করেছি আমরা আমাদের জোটের পক্ষ থেকে যাকে মনোনীত করা হয়েছে তিনি হলেন দলের প্রার্থী। সেটাকে সামনে রেখে ফেনী-২ আসনে আমার প্রার্থীতা বাদ দিয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জুকে প্রার্থী করা হয়েছে। সে দশ দলের প্রার্থী। এ জন্য আমরা ফেনীবাসীর নিকট আবেদন করবো, আমাদের সকল দল মতের উর্ধ্বে উঠে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঈগলের জন্য কাজ করবো। পাশাপাশি আমরা গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট চাই।
মজিবুর রহমান এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার পাঁচগছিয়া,বালিগাঁও ও ধলিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণা করে থাকেন।
এবি পার্টির ফেনী জেলা সদস্য সচিব ফজলুল হকের সঞ্চালনায় এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা শাখার সাবেক আমির একেএম শামছুদ্দিন, প্রচার মিডিয়া সম্পাদক আনম আব্দুর রহিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির ফেনী জেলার সদস্য সচিব শাহ ওয়ালিউল্লা মালিক,খেলাফত মজলিসের সভাপতি মোজাফফর হোসেন জাফরী, সহ সাধারণ সম্পাদক, এবি পার্টির চট্রগ্রাম বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদল, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের আহবায়ক প্রিন্স আল আমিনসহ ১০ দলীয় জোটের ফেনী জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



