শিরোনাম

নিজ গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত পর্বতারোহী রেশমা

আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নড়াইলের কৃতি সন্তান পর্বতারোহী, সাইক্লিস্ট ও দৌড়বিদ রেশমা নাহার রত্না।
শনিবার সকালে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধোপাদাহ গ্রামের নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে রত্নার কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকুল কুমার মৈত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ও ভক্তরা।
ধোপাদাহ গ্রামের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন সিকদারের (বীর বিক্রম) আদরের ছোট কন্যা পর্বতারোহী, সাইক্লিস্ট ও দৌড়বিদ রেশমা নাহার রত্নার (৩৩) নিথর দেহ শুক্রবার রাতে বাড়িতে পৌছাঁলে আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় মাইক্রোবাসের চালককে আটকসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন লেকরোডে সাইক্লিং করার সময় একটি প্রাইভেটকার চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রাজধানীর লেকরোডে একটি গাড়ি তাকে চাপা দেয়। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রেশমার সাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
রেশমা নাহার রত্না ২০০২ সালে লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকায় ইডেন কলেজে লেখাপড়া শেষ করেন।
তিনি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার আইয়ুব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তার পবর্ত জয়সহ আরও কিছু স্বপ্ন ছিলো। অকালে ঝরে যাওয়ায় তার সব স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল।
রেশমা নাহার রত্মা ৬ হাজার মিটারের দুটি পর্বতে সফল অভিযানের পর বেশ আলোচনায় আসেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের পাহাড় কেওক্রাডংয়ের চূড়া স্পর্শ করার মাধ্যমে শুরু হয় রত্নার অভিযান। এরপর আর থেমে থাকেননি। ওই বছর মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের উত্তরাখন্ডে উত্তরকাশিতে অবস্থিত পর্বতারোহন প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নেহেরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টিইনিয়ারিংয়ে যান তিনি। কিন্তু অ্যাডভ্যান্স বেজক্যাম্পে যাওয়ার পর তার পায়ে ফ্র্যাকচার হয়। দেশে ফেরার পর সুস্থ হতে সময় লেগে যায়। পরবর্তী সময়ে নিজ উদ্যোগে সফলভাবে পর্বতারোহণের মৌলিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি।
২০১৯ সালের ২৪ আগস্ট ভারতের লাদাখের স্টক কানরি (৬ হাজার ১৫৩ মিটার) ও ৩০ আগস্ট কাং ইয়াস্তে-২ (৬হাজার ২৫০ মিটার) পর্বত দুটিতেও সফলভাবে আরোহন করেন।
এছাড়া ২০১৮ সালের আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কেনিয়া অভিযানেও রেশমা নাহার রত্মা অংশ নিয়েছিলেন। দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button