উপমহাদেশশিরোনাম

নিজেরা না খেয়ে গন্ডারদের জন্য দুধ কিনে দিল স্কুল পড়ুয়া শিশুরা

গল্পের ছলে স্কুলের শিক্ষিকাদের কাছ থেকে বাচ্চারা জেনেছিল, সাম্প্রতিক বন্যায় আসামের কাজিরাঙার জঙ্গলে অনাথ হয়ে যাওয়া ছোট্ট গণ্ডার শাবকদের কথা।
বন্যার কারণে বাপ-মা হারা ওই গণ্ডারগুলোকে একটা আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে-সেকথাও তারা জেনেছিল শিক্ষিকাদের কাছেই।
এরপর ওই স্কুল শিক্ষার্থীরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা একদিন দুপুরের খাবার খাবে না! সেই টাকায় গন্ডারশাবকদের দুধ কিনে দেবে তারা।
ভারতের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে সরকারী ব্যবস্থাপনায় যে রান্না করা ভাত-ডাল-সবজি খাওয়ানো হয় শিক্ষার্থীদের, সেই ‘মিড ডে মিল’এর বরাদ্দ টাকা খুবই সামান্য – মাথাপিছু মাত্র ৩ টাকা ৮৬ পয়সা।
তবু সেই টাকাই নিজেরা না খেয়ে গন্ডারশাবকগুলিকে খাওয়াবার জন্য তুলে দিতে ১০৩ জন ছাত্র।

স্কুল-পড়ুযা শিশুদের নিজেরা না খেয়ে এই দান অভিভূত করেছে স্থানীয় মানুষদের।
স্কুল-পড়ুযা শিশুদের নিজেরা না খেয়ে এই দান অভিভূত করেছে স্থানীয় মানুষদের।

আসামের গোলাঘাট জেলার নেপালি-খুঁটি বানুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই ছাত্ররা তাদের প্রধান শিক্ষককে জানায় তাদের আর্জি।
প্রধান শিক্ষক বুবুল দত্ত যোগাযোগ করেন অনাথ গণ্ডারশাবকদের আশ্রয় কেন্দ্রের প্রধান ড. রথীন বর্মণের সঙ্গে।
মি. দত্ত বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “ছোট ছোট ছাত্ররা যখন আমার কাছে এই প্রস্তাব নিয়ে এলো, তখন খুবই অবাক হয়েছিলাম। ছাত্রদের মিড ডে মিলের টাকার সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকা আর স্থানীয় কিছু মানুষের কাছেও চাঁদা যোগাড় করা হয়। কয়েকদিন আগে গণ্ডারগুলোর জন্য দুধের প্যাকেটগুলো তুলে দিয়েছি আমরা”।
একেকটি গণ্ডার শাবক দিনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লিটার দুধ খায়।
স্কুল ছাত্রদের, তা-ও আবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের এই আবেগ দেখে অভিভূত গণ্ডার উদ্ধার কেন্দ্রের অধিকর্তা ড. রথীন বর্মণ।
তাঁর কথায়, “আমরা তো মানুষের দান নিয়েই এই কেন্দ্রটা চালাই। কিন্তু স্কুলের বাচ্চারা তাদের খাবার না খেয়ে গন্ডারশাবকদের জন্য দুধ যোগাড় করে দিচ্ছে-জীবনে এরকম দান কখনও পাই নি। হয়তো এই দানের পরিমাণটা খুবই অল্প, কিন্তু ওরা যে এই অনাথ গণ্ডারগুলোর জন্য ভেবেছে, সেটাই অনেক। তবে আমরা কখনই চাইব না যে নিজেরা না খেয়ে থাকুক ওই পড়ুয়ারা”।
আসামের সাম্প্রতিক বন্যায় কাজিরাঙা অভয়ারণ্যের প্রায় ৮০% এলাকা ডুবে গিয়েছিল। অন্তত ২০টি প্রাপ্তবয়স্ক গণ্ডার জলে ডুবে মারা গেছে। তাদেরই বাচ্চাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় এই উদ্ধার কেন্দ্রে।
এবছর উদ্ধার করা হয়েছে ৮টি শাবক। গত বছর উদ্ধার হওয়া একটিও রয়েছে কেন্দ্রটিতে।
শিশু শিক্ষার্থীদের এই অসামান্য দানের জন্য ওই বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ধন্যবাদ জানাতে শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button