Uncategorized

নামের ‘কাঙ্গাল’ দুই নেতার জন্য….সেতুটি উদ্বোধন হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের বেউথা কালীগঙ্গা নদীর উপর সেতু তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু নদীর দুই তীরের মানুষ যাতায়াত করে নৌকা দিয়েই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই নেতার দ্বন্দে¦র কারণে এই ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন চান সেতুটি তার বাবা আবদুল মালেকের নামে হোক আর মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র রমজান আলী তার নিজের নামে স্থাপনাটির নাম রাখতে চান। দুই দ্বন্দ্বের মীমাংসা না হওয়ায় সেতুটি উদ্বোধন হচ্ছে না। ফলে শহরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়েছে একটি বিরাট এলাকার মানুষ।
হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, ‘ব্রিজের কাজ শেষ হয়ে গেলেও দুই নেতার কারণে আমরা নৌকায় করে নদী পার হচ্ছি।’
মানিকগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম বলেন, ‘সাধারণ মানুষের স্বপ্নের সেতুটি দুই ব্যক্তির নাম জটিলতার কারণে বন্ধ থাকতে পারে না। দ্রুত এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’
২০১৩ সালে বেউথা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। নির্মাণ কাজ পায় নাভার কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই বছরের অক্টোবরে ২৯৭ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৩৮ কোটি ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ১১৪ টাকার মূল সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ছয় মাস আগেই। তবে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য এটি উপযোগী হয় গত ২৫ জুলাই। এরপর এলজিইডি থেকে সেতুটি উদ্বোধন করার তারিখ ঠিক করা হয় ৩০ জুলাই।
manikganj  bridge_124305_1
কিন্তু সেটি আর উদ্বোধন হয়নি। বরং এটি যেন ব্যবহার করা না যায় তার সব বন্দোবস্ত করে রেখেছেন দুই নেতার অনুসারীরা। তারা সেতুর ওপর দুই দিকে লোহার গেট তৈরি করে তালা দিয়ে রেখেছেন।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র রমজান আলী বলেন, ‘সেতুটি উদ্বোধনের সময়ই সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আমার নাম অনুমোদন করে রেখেছেন। এ কারণে সেতুটি রমজান আলী সেতু নামেই উদ্বোধন করতে হবে। যদি কেউ জোরপূর্বক সেতুর নাম পরিবর্তন করে উদ্বোধন করতে চায় তাহলে জনগণ তা প্রতিহত করবে।’
মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেন, ‘সেতুর নাম নিয়ে জটিলতা থাকবে না। যেহেতু সেতুটি এলজিআরডির সেহেতু তারা যে সিদ্ধান্ত দিবে সেই মোতাবেক কাজ হবে।’
জানতে চাইলে এলজিইডির মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল বারেক হাওলাদার জানান, ‘যখনি উপরের নির্দেশনা পাওয়া যাবে তখনি সাধারণ মানুষদের জন্য সেতুটি খুলে দেয়া হবে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button