নাটোরে শতবর্ষী অন্ধ মাকে রাস্তায় ফেলে দিলো সন্তানেরা

নাটোরের শতবর্ষী পাঁচ সন্তানের মা অন্ধ তারা বানুকে বুধবার রাতের আঁধারে রাস্তায় ফেলে দিলো তার সন্তানেরা। পরে চাপে পড়ে বাড়িতে নিয়ে গেলেও তার স্থান থাকার ঘরে হয়নি, হয়েছে গোয়ালঘরে।
নাটোর সদরের ছাতনী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা করার কথা বলে রাতেই বড় ছেলে মানিকের বাড়িতে বৃদ্ধাকে রেখে এসেছিলেন।কিন্তু তার দুই নাতি জাফর ও রেজাউল এবং তাদের দুই স্ত্রী অন্ধ এই বৃদ্ধাকে রাতে থাকতে দেন বাড়ির গোয়ালঘরে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার শতাধিক সাধারণ নারী পুরুষ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফাজ্জ্বল হোসেন বৃদ্ধার তিন ছেলে মানিক (৭৩), হানিফ (৭০) ও আজাদকে (৫৬) বোঝানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, তিন ছেলের আধাপাকা বাড়ি ও প্রয়োজনীয় জমিজমা থাকলেও তারা কেউ মায়ের দায়িত্ব নেননি। অন্ধ তারা বানু পাশের গ্রামের তার বড় মেয়ে বায়লা বেগম ও জামাইয়ের বাড়িতে থাকতেন। তার বয়স্ক ভাতার টাকাও তিনি এ কারণে মেয়ে আর জামাইকে দিতেন। এতে বাধ সাধে ছোট দুই ছেলে আর বড় ছেলের ঘরের দুই নাতি। সবাই ওই টাকায় সমান ভাগ চান।
টাকা ভাগ হওয়ার জন্য এবার তিন ছেলের ঘরেই এক মাস করে বৃদ্ধাকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। অক্টোবর মাস বৃদ্ধা ছিলেন ছোট ছেলে আজাদের সংসারে। নভেম্বর মাসের দুই তারিখ পার হয়ে গেলেও হিসাব মতে বড় ছেলে মাকে নেননি। তাই ছোট ছেলে অন্ধ মাকে ফেলে যান গ্রামের রাস্তায়।
অসুস্থ বড় ছেলের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে এলাকার দুই জনপ্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম ও নূর ইসলাম বাবু এবং সাধারণ মানুষ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে দিয়ে যান। কিন্তু মানুষ চলে গেলে বড় ছেলের দুই সন্তান জাফর ও রেজাউল এবং তাদের স্ত্রীরা বৃদ্ধাকে বাড়ির গোয়াল ঘরে আশ্রয় দেন।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি জেনে এলাকার শত শত মানুষ বৃদ্ধাকে একনজর দেখে এই পরিবারের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে। বৃদ্ধার অবস্থা দেখে সংবাদ কর্মীসহ স্থানীয়দের চোখে অশ্রু দেখা গেলেও মন গলেনি নিজের পেটের সন্তানদের। বড় ছেলে মানিক বলেছেন, সংসারে তার নিজের কোনো দাম নেই। স্ত্রী মারা গেছে অনেক আগে। এখন দুই ছেলের দয়ায় তাকে বেঁচে থাকতে হয়। ছেলেরা তার কোনো কথা শোনেন না। তাই ইচ্ছে থাকলেও মায়ের জন্য তিনি কিছুই করতে পারেনি।
নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বিষয়টি জানতে পেরে সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জোবায়ের হাবিবকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বৃদ্ধার কাছে পাঠিয়ে তাকে তার মেয়ের বাড়িতে রেখে থাকা ও খাবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।




