slider

নাটোরে মামলা চলমান জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের অভিযোগ

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোর সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে মামলা চলমান জমিতে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে নাটোরের জেলা প্রশাসক,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), হালসা ইউনিয়নের তহশীলদারের বিরুদ্ধে।

জানাযায়, ৭০ বছর ধরে ৩৩ টি পরিবারের প্রায় দেড় শতাধিক সদস্য পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৬ বিঘা জমিতে চাষাবাদ ও বসত বাড়ি নির্মান করে বসবাস করে আসছিল । হঠাৎ করে তারা জানতে পারেন তাদের জমিটি সরকারী খাস খতিয়ান ভুক্ত হয়েছে । সেখানে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর তৈরীর কাজ শুরু হলে চলতি বছরের ২ মার্চ নাটোর সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।

আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও ভূমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী লাল মিয়া সহ ২৬ জন। বাদীরা সবাই উপজেলার হালসা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাদী মো. লাল মিয়া সহ ২৬ জনের অভিযোগ উপজেলার হালসা ইউনিয়নের আওড়াইল মৌজায় হাল দাগনং ২১০১ পরিমান ১.৩১ একর এবং হাল দাগনং ২১০৩ পরিমান ৪১ একর ভূমির বিষয়ে গত ৩ মার্চ নাটোর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।

লাল মিয়া ওই ভূমির মালিকানা দাবিকরে বলেন, ২১০১ এবং ২১০৩ দাগে বিন্দু পরিমাণ ভূমি রসরকার পক্ষের কোনো মালিকানা কাগজপত্র নেই। তার পরেও বিএস নকশায় ভুল হওয়ার সুযোগে উল্লেখিত নালিশা দাগের ভূমিতে আইনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে আমাদের মালিকানা ও দখলীয় ভূমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্ পনির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এছাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ তড়িঘড়ি করে শুরুকরার সময় তাদের জমিতে থাকা রসুন, সিম, বেগুনের গাছ কেটে নষ্ট করা হয়েছে । তাদের ফসল ঘরে তোলার সময় দেয়া হয়নি ।
তিনি আরও বলেন, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আমার মালিকানা নালিশী ভূমিতে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, সরকারের এত অর্থ ব্যয়ের দায়ভার কে নেবে?

অপরদিকে উচ্ছেদ আতংকে ভুগছে ৩৩ টি পরিবারের সদস্যরা । এভাবে উচ্ছেদ হলে তারাও আশ্রয়হীন হয়ে পরবে । পরিবার গুলোর আর কোনজমি নেই । ভূমিহীন হওয়ার পরও তারা মামলা করার কারণে আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর পাবেনা বলে আশাংকা করছে । তাদের পূর্ণবাসন করার পর উচ্ছেদের দাবী জানান ।
এ বিষয়ে নাটোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জোবায়ের হাবিব জানান, সরকারি জমিতেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা সরকারী জমির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ শুরুকরেছি ।

নালিশা ভূমির রায় যদি বাদীর অনুকূলে যায়, তখন প্রকল্প নির্মাণের এত অর্থ ব্যয়ের দায়ভার কে নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাদীদের তো এখানে জমি নেই । সরকারী জমিতেই আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ হচ্ছে । সুতারাং বাদীর অনুকূলে রায় যাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা ।

নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারমিনা সাত্তার বলেন, সরকারী জমি নিশ্চিত হওয়ার পরই সেখানে আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে । ফসল তোলার জন্য তাদের যথেষ্ট সময় দেয়া হয়েছিল । কিন্তু তারা ফসল নাতুলে কালক্ষেপন করছিল । আদালতের নির্দেশনা মেনেই সব কাজ হচ্ছে । সেখানে আগে বসবাসরত ভূমিহীনরাই আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পাবে । যাদের জমি আছে তারা পাবেনা ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button