sliderস্থানিয়

নাগেশ্বরীর কাবিটা-কাবিখা-টিআর প্রকল্প লোপাট

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের আওতায় ২০২৫-২০২৬অর্থবছর প্রথম পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে টিআর (টেস্ট রিলিফ) কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় দুধকুমার নদীর পূর্বপাড়ে অবস্থিত কচাকাটা ইউনিয়নের প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করেই প্রকল্পের বিল উত্তোলন করে প্রকল্প সভাপতি এবং চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন মন্ডল ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পে কাজ চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের আওতায় প্রকল্প এলাকায় কাজ অংশিক করা হয়নি, কিন্তু বরাদ্দের অর্থ তোলা হয়েছে। এমনকি স্থানীয় লোকজন এসব প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানে না। আরো অভিযোগ, এসব প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ না করেই শতভাগ কাজ দেখায়ে অর্থ তুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে এই দুর্নীতি হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছে। প্রতিটি কাজের বরাদ্দ থেকে কমপক্ষে ২০শতাংশ অর্থ পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) কেটে নেওয়ার পরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিদের বিল দেওয়ার অভিযোগে উঠে এসেছে। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে ২য় ধাপের কাজের অর্থ এখনো উত্তোলন করতে পারেন-নি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সরেজমিনে গিয়ে, নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদীর পূর্বপাড় কচাকাটা ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে টিআর (টেস্ট রিলিফ) বরাদ্দ কচাকাটার ১নং ওয়ার্ডের বড় ছড়ারপাড় কবরস্থান মেরামত ও বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ ১লাখ ৩৮হাজার, ৩নং ওয়ার্ডের তরিরহাট বাজার হতে ধনীরামপুর ঘাট পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ও ঘাটে যাত্রী ছাউনী নির্মাণ করণ ১লাখ ৩৫হাজার, ৫নং ওয়ার্ডের বটতলা বাজার হাটশেট মেরামত করণ ২লাখ ৭০হাজার, ৬নং ওয়ার্ডের শফিকুলের বাড়ী হতে জোসেনের মোড় পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ও মোড়ে যাত্রী ছাউনী নির্মাণ ১লাখ ৩৫হাজার, ৩নং ওয়ার্ডের ভোটেরহাল্লা হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাদ নির্মাণ ৩লাখ ৬৯হাজার ও ৪নং ওয়ার্ডের ব্যাপারীটারী কবরস্থান মেরামত ও বাউনন্ডারী ওয়াল নির্মাণ ১লাখ ৩৮হাজার টাকা সমূহ চেয়ারম্যাম শাহাদাত হোসেন মন্ডল এবং স্ব-স্ব প্রকল্প সভাপতি যোগসাজশে রাস্তা মেরামত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অর্ধাংশ অর্থ দিয়ে নামমাত্র কাজ দেখায়ে অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কাবিটা (টাকা) ২নং ওয়ার্ডের নায়কেরহাট বাজার হতে মফিজুরের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ও রাস্তার পূর্বে গাইড ওয়াল নির্মাণ ৪লাখ ৫০হাজার, ৩নং ওয়ার্ডের রানুরমোড় হতে নূর সিদ্দিকের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ও গাইড ওয়াল নির্মাণ ২লাখ ৭০হাজার, ৩নং ওয়ার্ডের ভোটেরহাল্লা গ্রামের জয়নালের বাড়ী হতে পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ও সি,সি করণ ৪লাখ ৩০হাজার ও ৭নং ওয়ার্ডের ধনীরামপুর কবরস্থানে মাটি ভরাট ও গাইড ওয়াল নির্মাণ ২লাখ ৭০হাজার টাকা বরাদ্দে রাস্তা মেরামতে অমিয়ম ও গাইড ওয়াল নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া এবং সিমেন্টের ভাগ কম দিয়েছে ঢালাই করেন। স্থানীয় আজিজার রহমান, দীনেশ চন্দ্র, শহিদ আলী, জিয়াউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এসব রাস্তা মেরামতে অমিয়ম ও গাইড ওয়াল নির্মাণে নিন্মমানের ইটের খোয়া, বালু ও সিমেন্টের ভাগ কমিয়ে দ্রুত ঢালাই শেষ করেছেন এবং কাজ অনিয়মের মাঝে শেষ করেই সরকারের টাকা আত্মসাৎ করছেন।

অপরদিকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি কাবিখা ৮নং ওয়ার্ডের আবাসন হতে কাঠের ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তা পুন: নির্মাণ ৮মে: টন এবং ৫নং ওয়ার্ডের কাইয়ারচর শফিকের বাড়ী হতে আমিরের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ৮মে: টন। স্থানীয় জসিম উদ্দিন, ময়েন আলী, হবিবর রহমান, কফিল উদ্দিনসহ আরো অনেকে ক্ষোপ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের আওতায় চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন এসব কাজে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে নামমাত্র রাস্তা উন্নয়ন করে অর্থ হরিলুট করেছেন।

প্রকল্প সভাপতি ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন। স্থানীয় আব্দুস সাত্তার, রুহুল আমিন, কাসেম মিয়া, হাফিজ উদ্দিনসহ আরো অনেকে ক্ষোপ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। উপরোক্ত প্রকল্পে নয় ছয় কাজ। এদিকে নাওডাঙ্গা পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী আওয়ামী লীগের নেতা থাকায় পালিয়ে। এই সুযোগে চেয়ারম্যান তার মনোনীত ২/৩জন ইউপি সদস্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের নামে প্রকল্পগুলোতে চলছে হরিলুট।

কচাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন মন্ডল বলেন, এসব প্রকল্পে কাজ মোটামুটি করা হয়েছে। প্রতিটি কাজের বরাদ্দ থেকে কমপক্ষে ২০শতাংশ অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস কেটে নেওয়ার পরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিদের বিল দেওয়ার অভিযোগ করেন। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় ২য় ধাপের কাজের অর্থ এখনো উত্তোলন করতে পারি নাই।

নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.মোফাখখারুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে নাই।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। তদন্ত টিম গঠন করে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button