
বিয়েবাড়িতে ঢোকার আগেই হিন্দি গান ‘নাগিন’ শুনেছিলেন বর। এরপর বাড়িতে ঢোকার পর নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারলেন না। ঘোড়া থেকে লাফিয়ে বিয়ের পোশাক পরেই গানের সঙ্গে নাচা শুরু করলেন। আর তা দেখে ভীষণ চটে গিয়ে বিয়ে ভেঙে দিলেন কনে।
গত মঙ্গলবার রাতে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের শাহজাহানপুরে এই ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই বরের নাম অনুভব মিশ্র। আর কনের নাম প্রিয়াঙ্কা ত্রিপাঠী। বিয়ের কথাবার্তা চলার আগে থেকেই তাঁরা একে অপরকে চিনতেন। এরপর দুই পরিবারের মধ্যে কথাবার্তার মাধ্যমে বিয়ে ঠিক হয় অনুভব ও প্রিয়াঙ্কার।
গত মঙ্গলবার রাতে ছিল ওই বিয়ে। সে অনুযায়ী, বরের সাজে ঘোড়ায় চেপে পাত্রী প্রিয়াঙ্কার বাড়িতে বিয়ে করতে আসেন অনুভব। কিন্তু বিয়েবাড়িতে ঢোকার আগেই বাজল নাগিন গান। আর তাতেই ঘটে গেল যত বিপত্তি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিয়েতে আসার আগে অনুভব আনন্দে বেশ খানিকটা মদ্যপান করে ফেলেন। সেই নেশার ঘোরে নাগিন গান শুনে আর কোনোভাবেই নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি তিনি।
মঙ্গলবার রাতে পাত্রীর বাড়িতে ঢোকার আগে হবু শাশুড়ি বরণডালা নিয়ে এগিয়ে গেলেন হবু বরকে বরণ করতে। আর ঠিক সেই সময়েই বাজছিল নাগিন গান। আর যায় কোথায়। শাশুড়ির সামনেই মেঝেতে হাঁটু গেঁড়ে বসে সাপের মতো হিসহিস করে হেলেদুলে শুরু হলো জামাই অনুভবের সর্পনৃত্য। সঙ্গে জামাইয়ের বন্ধুরাও কোমর দোলাতে শুরু করে দিল, যা দেখে বরণডালা হাতে ভিরমি খাওয়ার জোগাড় শাশুড়ির।
এদিকে বাড়িতে ঢোকার মুখে হবু বরের এই নাচ দেখে প্রিয়াঙ্কার বান্ধবীরা তাঁকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর দরজার ফাঁক দিয়ে হবু বরের এই কাণ্ড দেখে তো রীতিমতো মাথায় হাত ২৩ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কার। সঙ্গে সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, কোনোমতেই এই নাচিয়ে বরকে বিয়ে করবেন না তিনি।
পরে বরপক্ষের লোকজন অনেক বুঝিয়েও প্রিয়াঙ্কাকে রাজি করাতে পারেননি। এমনকি ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় পুলিশেও খবর দেন তিনি। এরপরই বাড়ির পথ ধরেন অনুভব ও বরযাত্রীরা।




