জাতীয়শিরোনাম

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে রোহিঙ্গা : শেষ ঠিকানা কোথায়?

কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তের পর নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ৩০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। তারা সেখানে খোলা আকাশের নিচে বিপর্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
তিন দিনের উপোস অনেক শিশুকে নিয়ে মা-বাবা আহাজারি করছেন আকাশের দিকে দু’হাত তুলে। কান্নার আওয়াজে আকাশ ভারী হয়ে গেছে নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত এলাকা। রবিবার থেকে প্রতিটি মুহূর্তে ছোট ছোট দলে রোহিঙ্গারা এখানে জড়ো হচ্ছেন। বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারছেন না।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু আহম্মদ জানান, মিয়ানমার বাহিনীর গুলির আওয়াজে সীমান্ত ঘেঁষা তুমব্রু, দক্ষিণ ঘুমধুম ও ভাজাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুলির আওয়াজে শিক্ষার্থীরা এদিক-ওদিক পালাতে থাকলে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। জিরো পয়েন্টে জড়ো হওয়া আতঙ্কগ্রস্ত নারী পুরুষ জিরো পয়েন্টের খোলা আকাশের নিচে, গহিন জঙ্গলে ও পাহাড়ের ঢালুতে বসে আতঙ্কের প্রহর গুনছে। তবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্তে জোরদার করা হয়েছে বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার বাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দল।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তের পিলার ৪১ নম্বর থেকে ৪৭ নম্বর পিলারে ঘুমধুম, তুমব্রু, চাকডালা, আশারতলী, ফুলতলা ও লিমুছড়ি সহ ছয়টি সীমান্ত পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা খাদিজা বেগম জানান, তাদের গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী ঢুকে পড়ে ঘুলি চালিয়েছে। তার দুই ভাই মারা গেছে। স্বামী ও তিনি পালিয়ে আসতে পেরেছেন।
ঘুমধুম ইউনিয়নের এনামুল হক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে মায়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে সে দেশের হেলিকপ্টার উড়েছে। আশারতলী জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে রশিদ আহম্মদ জানিয়েছেন, জিরো পয়েন্টে অবস্থানরত হাজার হাজার শিশু, নারী ও পুরুষ অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. এরশাদুল হক সাংবাদিকদের জানান, সোমবার মিয়ানমার বাহিনীর ছোড়া একটি বুলেট সকাল ৮ টায় ঘুমধুমের টুমরো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং অপর ১টি বুলেট তুমব্রু বাজারে পড়ে। যার কারণে এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জিরো পয়েন্টে অনুপ্রবেশের জন্য জড়ো হওয়ার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে ৩০ হাজারের অধিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম জানিয়েছেন, ঘুমধুম, তুমরু, আশারতলী ও চাকডালার জিরো পয়েন্টে অবস্থানরত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button