
মো:শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটির ‘তিমিরকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে’ শ্রেণীকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। উপজেলার অন্যতম প্রাচীন এই স্কুলটিতে জেনারেল এবং ভোকেশনাল শাখায় প্রায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এই ৭শ শিক্ষার্থীর জন্য কমপক্ষে ২৪টি শ্রেণীকক্ষের প্রয়োাজনয়তা থাকলেও মাত্র ১৩টি শ্রেণীকক্ষে দিয়েই বিদ্যালয়টিতে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
নলছিটি উপজেলার ৯ নম্বর দপদপিয়া ইউনিয়নের তিমিরকাটি গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পাঁচটি ট্রেডে ভর্তি ও পাঠদানের অনুমতি পায়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন আক্তার অন্নি জানান, “আমাদের বিদ্যালয়র শিক্ষকরা খুব আন্তরিকভাবে পাঠদান করান। একটি ডিজিটাল ল্যাব ও একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম থাকলেও পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষের অভাব আমাদের শিক্ষাজীবনে বড় প্রতিবন্ধকতা।”
আরেক শিক্ষার্থী তানজিম ইসলাম অর্ণব জানান,“আমাদের বিদ্যালয়টি পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী। খেলাধুলা ও বিজ্ঞানাগারে আমাদের সুনাম রয়েছে। কিন্তু শ্রেণীকক্ষের সংকটের কারণে একাধিক ক্লাস একসাথে নিতে হয়, যা পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি করে।”
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশা মনি বলেন,“প্রধান শিক্ষক আমাদের খুব যত্ন করেন। প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, শিক্ষা সফরসহ নানা অনুষ্ঠান হয়। তবে শ্রেণীকক্ষের সংকটে অনেক সময় ক্লাস করতে সমস্যা হয়।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন শাহীন জানান, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। জেনারেল ও ভোকেশনাল দুটি শাখায় মোট প্রায় ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী কাজ করছেন। জেনারেল শাখায় তিনটি বিভাগে চার শতাধিক এবং ভোকেশনাল শাখায় পাঁচটি ট্রেডে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণীকক্ষ স্বল্পতার কারণে পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে একটি নতুন একাডেমিক ভবন অত্যন্ত জরুরি।
বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরাও। তারা বলেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে তিমিরকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির জেনারেল ও ভোকেশনাল শাখা এলাকার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তার গৌরব ধরে রাখতে পারবে।
এ বিষয়ে জানতে নলছিটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল আজিমকে তার মুঠোফোনে (০১৭১১-০৩১৬০৭) একাদিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।




