
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত উপজেলার তালতলা বাজারে এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক চলছিলো। এতে প্রায় কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
উঠান বৈঠক চলাকালে সুবিদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মোঃ দোলন মুন্সির নেতৃত্বে ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ সমর্থক বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টা করে। তবে দোলন মুন্সির বিরুদ্ধে পূর্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ থাকায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজল তালুকদারসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ এতে আপত্তি জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান খান হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদ আলম মান্না, সদস্য সচিব মোঃ সাইদুল কবির রানা সহ একাদিক নেতাকে ভিতরে রেখে দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে ইউনিয়ন বিএনপির সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ সময় ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা দোলন মুন্সির মেঝো ভাই ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন মুন্সী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম অপুর নেতৃত্বে অপর পক্ষ স্থানীয় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে দুই দিকে অবস্থান নেয়। এ ঘটনায় কোনো পক্ষের নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন-এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে কার্যালয় খুলে উপজেলার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহীদ খান ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল সুমন মুন্সী ও যুবলীগ নেতা দোলন মুন্সির পরিবারকে ওই ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতিতে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করলে নেতাকর্মীরা শান্ত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ সজল তালুকদার বলেন, আমাদের যথারীতি ধানেরশীষের উঠান বৈঠক চলাকালে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা দোলন মুন্সি যুবলীগের ১০-১৫ জন ক্যাডার সহ বিএনপিতে যোগদান করতে আসেন। ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর তার নাম ঘোষনা করলে আমি বাধা দেই। তখন অপু মুন্সি আমাকে বলে আমি কে? এমন ঔদ্ধত্যপূর্ন আচরন করলে আমরা সভাস্থল ত্যাগ করি এবং ইউনিয়ন বিএনপি অফিসের সামনে বিক্ষোভ করি। কিছু সময় পর ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল সুমন মুন্সীর নেতৃত্বে যুবলীগ ক্যাডাররা দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি অফিসে হামলা চালাতে আসলে আমরা তাদেরকে প্রতিরোধ করেছি।
বিষয়টি জানতে নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান (হেলাল) খানের মোবাইল (০১৭১৬৬১১৭০৪) নাম্বারে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।




