নতুন সংবিধান পাচ্ছে থাইল্যান্ড

নতুন সংবিধান পাচ্ছে থাইল্যান্ডের জনগণ। এই উদ্দেশে রোববার একটি গণভোটে অংশগ্রহণ করেছে তারা। নতুন সংবিধান রচনা করছে দেশটির আর্মিদের নিয়োগ দেয়া একটি কমিটি।
তুমুল রাজনৈতিক বিরোধ এবং হানাহানির কারণে ২০১৪ সালে যে সংবিধান ছিলো, তা বাতিল করে দিয়েছে দেশটির আর্মি। এরপর থেকেই শুরু হয় নতুন সংবিধান প্রণয়নের কাজ। যে সংবিধানের মূল কথা হলো জনগণের জন্য সত্যিকার গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।
রোববারের ভোটাভুটিতেই থাইল্যান্ডের নতুন সংবিধান নিশ্চিত হতে পারে বলে সেখানে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে। ভোটাভুটিতে বহু লোক অংশগ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
এ দিকে বিরোধীরা নতুন সংবাদ প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং ভোটাভুটিকে অন্যায্য বলে দাবি করেছে। তারা বলছে, যারা এই গণভোট প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তারা আসলে সত্যের সঙ্গে নেই।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে অন্য কথা। তাদের দাবি, বেশির ভাগ মানুষই নতুন সংবিধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেনি। কারণ নতুন সংবিধানের ধারা- উপধারা সম্পর্কে মানুষকে জানার সুযোগই দেয়া হয়নি।
এ দিকে বিরোধীদের মধ্যে অন্তত ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে গণভোট প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য জেলের শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, আজ মোট ৪০ মিলিয়ন লোক গণভোটে অংশগ্রহণ করবেন। খসড়া সংবিধানে হ্যা বা না বলার সুযোগ পাবেন তারা। যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট পেয়ে ‘হ্যা’ জিতে যায়, তবে খসড়াই সংবিধানে পরিণত হবে এবং সেনা নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসার দিকে অগ্রসর হবে থাইল্যান্ড।
আর যদি নতুন সংবিধানে নাগরিকরা আগ্রহ না দেখান, তবে কী হবে তা অনিশ্চিত। আরো দীর্ঘ মেয়াদে আর্মিরা ক্ষমতায় থেকে যাবে, এটা অবশ্য নিশ্চিত।
থাইল্যান্ডে এই পরিস্থিতির মূল কারণ প্রায় এক দশকের দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হানাহানি। এ ছাড়া থাই রাজনীতিকদের অবার দুর্নীতিও তাদের এই পরিণতির মূল কারণ। আজকের পর লেখা হতে পারে থাইল্যান্ডের নতুন ইতিহাস। অথবা আরো অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে দেশটি।




