নতুন সংবিধানের ওপর থাইল্যান্ডে গণভোট রোববার

নতুন একটি সংবিধানের ওপর আগামীকাল রোববার গণভোট হবে থাইল্যান্ডে।
অনলাইন সিএনএন বলেছে, এ সংবিধানটি পাস হলে তাতে দেশটির সেনাবাহিনী নাটকীয়ভাবে অতিরিক্ত ক্ষমতা পাবে।
২০১৪ সালে রক্তপাতহীন এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করে তা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর নতুন করে সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করা হয়। সেই সংবিধান জনগণ মানেন কিনা ভোট হবে তার ওপর।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সাথে উচ্চকক্ষ সিনেটকেও অনুমোদন দেয়া হবে কিনা তার পক্ষে-বিপক্ষেও ভোট দেবেন ভোটাররা।
ভোট গ্রহণ শেষে স্থানীয় সময় রোববার শেষ রাত নাগাদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতে পারে।
যদি এতে নতুন সংবিধান পাস হয় তাহলে এটা হবে থাইল্যান্ডের ২০তম সংবিধান।
সিএনএন লিখেছে, থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডার ইন চিফ প্রায়ুত চান ওচা এখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
তিনি দাবি করেছেন, নতুন সংবিধানের মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ড পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রে ফিরে যাবে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ সংবিধানের পক্ষে ভোট দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শুক্রবার।
তবে তিনি গণতন্ত্রে ফেরার যে ঘোষণা দিয়েছেন তা নিয়ে অনেক থাই ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সন্দিহান। কারণ, নতুন সংবিধানের অধীনে দেশটির রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব সুদৃঢ় হবে।
এ সংবিধানে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, সরাসরি নির্বাচনে নয়। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন পার্লামেন্ট বা ন্যাশনাল এসেম্বলি ও সিনেটে সেনাবাহিনীর জন্য যেসব আসন সংরক্ষিত আছে সেখান থেকে।
নতুন এ সংবিধান নিয়ে আলোচনা বা সমলোচনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, খসড়া সংবিধানের সমালোচনাকে সেনা শাসকরা রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে রেখেছেন। তাই গণভোট এগিয়ে আসায় ভীতিকর এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এ সংবিধানের অধীনে ভবিষ্যতে সামরিক অভ্যুত্থান ছাড়াই সেনাবাহিনী ক্ষমতা পরিচালনা করতে পারবে, যেমনটা ১৯৩২ সালের পর ১২ বার দেখেছে থাইল্যান্ড।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক গবেষণা সংগঠন ইন্সটিটিউট অব সাউথইস্ট এশিয়ান স্টাডিজের মতে, খসড়া এই সংবিধানের লক্ষ্য হলো সেনাবাহিনী ও অভিজাতদের ক্ষমতাকে পোক্ত করা। যদি গণভোটে এটি পাস হয় তাহলে থাইল্যান্ড সেনাবাহিনীর আধা-কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হবে।



