রাজনীতিশিরোনাম

নজরদারিতে যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক

এবার র‌্যাব-পুলিশের নজরদারিতে আছেন যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান। ক্লাবে ক্যাসিনোর জুয়ায় জড়িত থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর, রবিবার আনিসুরের আটকের গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। তবে দায়িত্বশীল কেউ এমন সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেননি।
যুবলীগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পিয়ন হিসেবে চাকরি নেন আনিস। পিয়নের কাজের পাশাপাশি কম্পিউটার অপারেটরের কাজও করতেন তিনি। এভাবেই কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাদের সঙ্গেও সখ্যতা গড়ে ওঠে আনিসের। কম্পিউটারে নিয়মিত সারা দেশের সব যুবলীগ কমিটির তালিকা তৈরি করতে গিয়ে সব তথ্য তার নখদর্পণে চলে আসে। মুখস্থ বলে দিতে পারতেন যেকোনো কমিটির নেতার নাম। এসব কারণেই চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হয়ে যান আনিস।
পরে শীর্ষ নেতাদের আশীর্বাদে সংগঠনের নেতা বনে যান সকলের কাছে ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত আনিসুর রহমান। গত এক যুগে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। কিছু যুবলীগ নেতার সব ধরনের অপকর্মের সঙ্গী এই আনিস।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের একাধিক নেতা বলেন, ক্ষমতাধর আনিসুর রহমান যুবলীগের চেয়ারম্যান বাদে কাউকেই পরোয়া করেন না। ২০০১ সালে যুবলীগের অফিসে কম্পিউটার অপারেটরের কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এরপর নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে বিভিন্ন কাজ ভাগিয়ে নেন।
গত ১২ বছরে আলাদিনের চেরাগ হাতে পাওয়ার মতোই বদলেছে তার ভাগ্য। পাঁচ বছর আগেও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে টিনের ঘরে থাকা আনিসুরের বাড়িতে এখন সুরম্য অট্টালিকা। ময়মনসিংহের ভালুকা, ঢাকার স্বামীবাগ, ইত্তেফাক মোড়, যাত্রাবাড়ী, শুক্রাবাদ, উত্তরায়ও বাড়ি আছে তার। এছাড়া লালমাটিয়া, ঝিগাতলা ও ধানমণ্ডিতে আছে কয়েকটি ফ্ল্যাট। উত্তরা, মিরপুর ও গুলশানে মার্কেটে আনিসের নামে আছে দোকান। নারায়ণগঞ্জের একটি চটের মিলেরও মালিক আনিসুর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button