নওগাঁয় কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি : মনে হয় যেন “যেমন খুশি, তেমন সাজো”

জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁয় ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে শীত। মানুষ শীতের তীব্রতা কিছুটা অনুভব করছেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সম্ভাব্যতা নিয়েও সঙ্কিত সরকার। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে নওগাঁয় কেউই মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। মনে হয় যেন “যেমন খুশি, তেমন সাজো” সেখানকার নিয়মনীতি। কোনও কিছুতেই মানছে না স্বাস্থবিধি।
গতকাল পার নওগাঁ খলিফা পাড়া বউ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা পাশাপাশি দোকান সাজিয়ে বসেছেন। ধাক্কাধাক্কি করে মাছের ডালা সাজাচ্ছেন। ক্রেতারাও ভিড় ঠেলে মাছ কিনছেন। মাস্ক নেই কারো মুখে।
ফিরোজ স্টোর কর্ণধার ফিরোজ হোসেন বলেন,তিন বছর থেকে এখানে ব্যবসা করি,তবে এখানে সব কাষ্টমার মহিলা তাই বউ বাজার নামে পরিচিত।কাষ্টমার দোকানে আসলে
সামাজিক দূরত্ব মেনে কেনা কাটার আহ্বান জানাচ্ছি।
করোনাভাইরাস নামে যে কোনো সংক্রামক রোগ জীবন কেড়ে নিচ্ছে এ বাজার দেখলে তা বোঝার উপায় নেই। ভিড় ঠেলে হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে আসছিলেন কুলসুম আরা বেগম। মাস্ক হাতে ব্যাগের সঙ্গে ঝোলানো। জনসমাগমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘দৈনন্দিন খাবারের জন্য বাজার তো করতেই হবে। ভিড় হলে কিছু করার নেই। মাস্ক পরেই ছিলাম, কিছুক্ষণ আগে খুলেছি। কাজে বের হলেও মানুষ শারীরিক দূরত্ব মানছে না। ব্রিজের মোড়, বাটার মোড়ে তেমন ভিড় না থাকলেও কেন জানি শুরু হয় হুড়োহুড়ি।
নওগাঁ পৌর ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ বলেন, নওগাঁ পৌরসভাধীন সকল বাজারে মাস্ক বিতরন ও সচেতনতার জন্য লিফলেট বিতরন করা হচ্ছে।
আরফিন ভ্যারাইটি স্টোর প্রোঃ আরিফ হোসেন বলেন, সকাল ৮ থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে, এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব তো বাদ, ধাক্কাধাক্কি সামাল দিতে ব্যস্ত থাকতে হয় আমাদের।
বাজারে মাছ কিনতে এসেছেন জান্নাত আরা নামে এক ক্রেতা বলেন, এতদিন ধরে তো মানলাম। আর কত? প্রয়োজনে তো বের হতেই হবে।
রজাকপুর খলিফা পাড়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন,মসজিদ এলাকায় বাজার হওয়ায় সামাজিক দূরত্বে বজায় রেখে দোকান করার আহ্বান করছি।
সচেতন মহল মনে করেন,করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এর কারণ হলো আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানছি না।




