ধামরাইয়ে জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৮

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সেলিম হোসেন তালুকদার (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তার মা,বাবা, ভাইসহ আরও ৮ জন। তাদের মধ্যে নিহত সেলিম তালুকদারের মা শিরিন আক্তারের অবস্থাও আশংকাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের সাভার ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বরাকৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেলিম তালুকদার বরাকৈর গ্রামের আব্দুল কাদের তালুকদারের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ধামরাইয়ের বরাকৈর গ্রামে ভিটাবাড়ির জমি নিয়ে আব্দুল কাদের তালুকদারের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল শুক্রবার সকালে আব্দুস সাত্তার ও তার ভাগ্নে লিটন মিয়া আব্দুল কাদের তালুকদারের দখলীয় ভিটাবাড়ির জমির মাটি কাটতে যায়। এসময় আব্দুল কাদের তালুকদার ও তার ছেলে সেলিম তালুকদার বাধা দেন। এক পর্যায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ধামরাই থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এরপর পুলিশ চলে যাওয়ার পর দুপুরের দিকে আবার দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায় আব্দুস সাত্তার তার ছেলে জাহিদ, দ্বীন ইসলাম ও ভাগ্নে লিটন মিয়াসহ কয়েকজনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুল কাদের তালুকদারের পরিবারের ওপর হামলা করে। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে আব্দুল কাদের তালুকদার তার স্ত্রী শিরিন আক্তার, ছেলে সেলিম তালুকদার, শাহীন, ভাতিজা শরীফুল ইসলামসহ ৮ জন আহত হন। এদের মধ্যে সেলিম তালুকদারকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রো নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর গুরুতর আহত তার মা শিরিন আক্তারকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং শরিফুল ও শাহীনকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রো ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত সেলিম হোসেন তালুকদারের চাচাতো ভাই আবদুল হালিম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ভিটাবাড়ির জমি নিয়ে আব্দুল কাদের তালুকদারের সঙ্গে পাশের আব্দুস সাত্তার ও লিটন মিয়ার বিরোধ চলে আসছিল। হামলা ও সংঘর্ষে সেলিম তালুকদার নিহত হয়েছে এবং গুরুতর আহত তার মা শিরিন আক্তারকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রোপাচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিস্তারিত অবগত হয়ে মামলা নেওয়া হবে এবং নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।



