
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার ধামরাইয়ের চৌহাট উত্তরপাড়ার সামছুল ইসলাম শোভার মুদি দোকানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে। তার মেয়ে রওশন আরা অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই গ্রামের সোহেল মিয়া তার শ্বশুর মোশারফ হোসেন ও তার ভাই
আনোয়ার মুন্সি ওই দোকানে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ঘটনার পর বুধবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জানা গেছে,সামছুল ইসলামের দোকানে মঙ্গলবার গভীর রাতে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে দোকানে রাখা একটি ফ্রিজ, একটি টেলিভিশন ও কিছু চিপস, সাবান, চানাচুর, বিস্কুট পুড়ে যায়। এ ঘটনায় সামছুল ইসলামের মেয়ে রওশন আরা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবার মুদি দোকানে চার-পাঁচ লাখ টাকার মালামাল ছিল। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই গ্রামের সোহেল মিয়া তার বড় ভাই আনোয়ার মুন্সি ও সোহেলের শ্বশুর মোশারফ হোসেন অগ্নি সংযোগ করেছে।
তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান তিনি’। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে দোকানটি বন্ধ ছিল।
বুধবার সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, সামছুল ইসলামের মেয়ে রওশন আরার স্বামী এরশাদ আলীর কাছে সোহেল মিয়া ২৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছেন। তারা (সোহেল ও এরশাদ আলী) দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুর প্রবাসী। এ টাকা নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গণমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে থানায় একাধিক সালিশ বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকে সোহেলকে ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার
সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গত দুই বছরেও ওই টাকা সোহেলকে পরিশোধ করেননি এরশাদ ও তার স্ত্রী রওশন আরা। সোহেল গত ৫ জুন সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসেন।
সোহেল মিয়া জানান, আমি দেশে আসার পরই এরশাদের স্ত্রী রওশন আরার কাছে পাওনা টাকা পরিশোধের তাগাদা দেই। কিন্তু তারা নানা তালবাহা করতে থাকে। গত মঙ্গলবার রওশন আরা পরিকল্পিতভাবে তার বাবার মুদি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছেন যাতে আমার পাওনা টাকা পরিশোধ না করতে হয়। বুধবার সামছুল ইসলামের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় চৌহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভীন হাসান প্রীতি বলেন, রওশন আরা ও তার স্বামী এরশাদ বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। সোহেলের পরিবারকে ফাঁসাতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা তারা নিজেরাই করেছে।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




