sliderস্থানিয়

ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত ঘরের টিনের বেড়া ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার ধামরাইয়ের বালিথা গ্রামে আধাপাকা ঘরের পরিত্যক্ত ধ্বংসাবশেষ ভেকু দিয়ে অপসারণের সময় আকস্মিকভাবে প্রতিবেশি পুলিশের এসআইয়ের একটি পরিত্যক্ত রান্না ঘরের টিনের বেড়া ভেঙে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৫জন নারী-পুরুষ রক্তাক্ত জখম হয়। আহতদের ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশংকাজনক।

জানা গেছে, ধামরাইয়ের কল্যানপুর মৌজায় ভিটি বাড়ির ১৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি নিয়ে বালিথা গ্রামের আমির হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ২০০৩ সাল থেকে আদালতে মামলা চলে আসছে। মামলা চলাকালীন ২০১১ সালে ওই বিরোধপূর্ণ জমি একই গ্রামের বাসিন্দা পুলিশের এসআই আব্দুস সাত্তার মিনহাজ উদ্দিনের কাছ থেকে ক্রয় করে জোরপূর্বক সেখানে টিনসেট আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে। ২০১৭ সালে ওই মামলায় আমির হোসেনের পক্ষে আদালত চুড়ান্ত রায় প্রদান করে। এরপরও এসআই আব্দুস সাত্তার ওই জমি থেকে তার স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় ওই আধাপাকা ঘরটি গত রোববার ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দেয় আমির হোসেন গং। বৃহস্পতিবার সকালে গুড়িয়ে দেওয়া ধ্বংসাবশেষ ভেকু দিয়ে অপসারণকালে আকস্মিকভাবে এসআই আব্দুস সাত্তারের একটি পরিত্যক্ত রান্না ঘরের টিনের বেড়া ভেঙে যায়। এ নিয়ে অপর প্রতিবেশি সুমন আলী, তুলা মিয়া, শহিদুল্লাহ, লাল মিয়া, মহিউদ্দিন,সাদেক আলী, ইসমাইল, বদু মিয়া, রাসেল গং আব্দুস সাত্তারের পক্ষ নিয়ে অতর্কিতভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমির হোসেন গংদের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রক্তাক্ত জখম হয় আমির হোসেন, আব্দুল খালেক, খাদিজা বেগম,ইমরান হোসেন,আব্দুল লতিফ রনু,নাছিমা বেগম, মামুন হোসেন,সাদ্দাম হোসেন,ইউসুফ আলী, আইয়ূব আলী, হালিমা বেগম, ছাহেরা বেগম,ফাতেমা, খোদেজা আক্তার, বাবর আলী, জায়েদা বেগম, সুমন আলী, তুলা মিয়া, শহিদুল্লাহ, লাল মিয়া, মহিউদ্দিন, সাদেক আলী, ইসমাইল হোসেনসহ ২৫ জন আহত হয়।

আহতদের ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে আমির হোসেন, আব্দুল খালেক,খাদিজা বেগম ও ইমরান হোসেনের অবস্থা গুরুতর হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

আহত আমির হোসেনের ছেলে মামুন হোসেন বলেন, আমাদের জমি থেকে পরিত্যক্ত ইট-সুরকি ভেকু দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার সময় আকস্মিকভাবে প্রতিবেশির একটি পরিত্যক্ত রান্না ঘরের একটি টিনের বেড়া ভেঙে যাওয়ায় তৃতীয় পক্ষের সুমন, ইসমাইল গংরা অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে জথম করেছে।

এবিষয়ে ইসমাইল হোসেন বলেন, আদালত থেকে রায় দেওয়া জমি নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই। রান্না ঘর ভাঙ্গার প্রতিবাদ করায় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button