ধানবৈচিত্র্য কৃষকের শক্তি

নাসির উদ্দিন, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ : এক সময় বাংলার মাঠে ঘাটে ছিল হাজারো রকমের ধান। কৃষকগণ বৈচিত্র্য রকমের ধান চাষ করতেন। রকমারী ধান ফলাতে জমির ধরন অনুযায়ী ধান চাষ করা হতো। কম খরচে নিজস্ব বীজ ও গোবর সার ব্যবহার করে ধান চাষ করতো। তখন কৃষকদের হতে ছিল বিভিন্ন ধরনের ধান বৈচিত্র্য। বর্তমানে কৃষকের হাতে গোনা কিছু ধান থাকায়, দুর্যোগ মোকাবেলায় হিমশিম খেতে হয়। রাসায়নিক সার ও বিষ ব্যবহার করে মাছসহ প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংশ। বরুন্ডি কৃষক সংগঠন ও বারসিক যৌথ উদ্যোগে প্রায়োগিক ধান গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকা উপযোগী ধানের জাত বাছাই ও ধানবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে আসছে।
কৃষক পর্যায়ে কম খরচে ও জৈব উপায়ে চাষাবাদ তথ্য আদান প্রদান করে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান করছে। ফলে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ধান বীজ বিনিময় তথ্য আদান প্রদানের সম্প্রসারণ হয়েছে। গবেষণা কার্যক্রম দেখে গ্রামে কৃষকগণ তাদের নিজস্ব উপায়ে কয়েকটি ধানের জাতের সমন্বয়ে গবেষণা করে ধানের জাত বাছাই করে চাষাবাদ করছেন। কৃষকগণ বরুন্ডি প্রায়োগিক ধান গবেষণা প্লটে কোরো মৌসুমে মাঠ দিবসের করে ২২ জন কৃষক ৬টি ধানের জাত বাছাই করেন। এলাকা উপযোগী ধানের জাত বাছাই ও তথ্য আদান প্রদানে চাষাবাদে উৎসাহীত হয়।
উক্ত মাঠ দিবসে আলোচনা করে বলেন বারসিক সমন্বয়কারী মানিকগঞ্জ বিমল রায়, প্রোগ্রাম অফিসার মাসুদুর রহমান, বরুন্ডি কৃষক সংগঠনের সদস্য কনিকা মন্ডল, কৃষক গবেষক বৈদ্যনাথ সরকার, কৃষক গুরুদাস সরকার ও প্রোগ্রাম অফিসার সত্যরঞ্জন সাহা বলেন, প্রায়োগিক ধান গবেষণার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করে উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করি। কৃষকদের উদ্যোগে ধানের জাত উন্নয়নে ব্রিডিং ও বাছায়ের মাধ্যমে করে উন্নয়ন করা হয়। দুর্যোগ মোকাবেলায় কোন ধরনের ধান ভাল হয় তা বাছাই করে আমরা চাষ করি। আমন মৌসুমে বন্যার পানি সহনশীল ও গভির পানির ধান বাছাই করে চাষ করছি। ধান গবেষণা মাধ্যমে খড়া সহনশীন ধান বাছাই করি “কাইশ্যাবিন্নি ধান”। জৈব উপায়ে ধান চাষের তথ্য আদান প্রদান করে সম্প্রসারণ করা হয়। যুব কৃষকগণ জৈব উদ্যোগ গ্রহন করে চাষাবাদে সফল হচ্ছে। যুবকদের উদ্যোগ দেখে অন্যরা উৎসাহীত হয়ে চাষাবাদ করছে।
প্রায়োগিক ধান গবেষণার মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদানে জৈব চর্চা সম্প্রসারণ হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে বীজবৈচিত্র্য বিনিময় করছে। ফলে কৃষক নিজস্ব উপায়ে গবেষণা করে এলাকা উপযোগী ধানের জাত বাছাই করছেন। অন্যান্য কৃষকগণ চাষ উদ্যোগ দেখে উৎসাহীত হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে কৃষিবৈচিত্র্য সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহন করছেন।




